বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। ছবি: খবরের কাগজ
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশে পাঁচ বছরে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করা। তবে বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে ভিসা সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক মানের আবাসন, বিনোদনকেন্দ্র, নিরাপত্তা ও পর্যটনবান্ধব নীতিমালার ঘাটতি রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনাসহ নানা উদ্যোগ নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার শাহনাজ পারভীন এলিস।
খবরের কাগজ: বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত বিকাশ ঘটেনি। এর প্রধান কারণ কী?
মো. সামীমুজ্জামান: এ দেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা বিশাল। অথচ এ খাত যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেভাবে এগোয়নি। এর অন্যতম কারণ পর্যটন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা। দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা, মানসম্মত আবাসন, নিরাপদ খাবার, সহনীয় পরিবহন ও হোটেল ভাড়া এবং দর্শনীয় স্থানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী বিনোদন ও অন্য সেবারও ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ পর্যাপ্ত নয়। এসব সীমাবদ্ধতা দূর করতে পারলে পর্যটন খাতকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত করা সম্ভব।
খবরের কাগজ: এ খাতের উন্নয়নে পর্যটন করপোরেশনের পরিকল্পনা কী?
মো. সামীমুজ্জামান: পর্যটন খাতের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে চাই। এ লক্ষ্যে পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রায় ৬০টি প্রকল্প প্রস্তুত করে সরকারের কাছে ১৯ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যটন অবকাঠামো, সেবার মান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। তবে লক্ষ্য অর্জনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ না বাড়লে জিডিপিতে পর্যটনের অবদানও প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেওয়া কঠিন হবে।
আরও পড়ুন
খবরের কাগজ: বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি পর্যটকের আগমন গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। আপনাদের পরিসংখ্যান কী বলছে?
মো. সামীমুজ্জামান: পর্যটকের আগমন কমেছে, এই দাবি নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে বলা ঠিক হবে না। তবে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম–এটি বাস্তবতা। তাদের আকৃষ্ট করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ দেশে আসা সব বিদেশি দর্শনার্থী পর্যটক নন; অনেকে ব্যবসা, চাকরি বা অন্য প্রয়োজনে আসেন। তাদের সবাইকে পর্যটক হিসেবে গণনা করা হলে প্রকৃত চিত্র ভিন্ন হতে পারে।
আরও পড়ুন
খবরের কাগজ: বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা কীভাবে এগোচ্ছে?
মো. সামীমুজ্জামান: প্রথমত, ভিসাপ্রক্রিয়া আরও সহজ করতে হবে। ভিসা জটিলতার কারণে বিদেশি পর্যটকরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। দ্বিতীয়ত, পর্যটনকে শুধু দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বিদেশি পর্যটকরা দিনের বেলা ঘোরাঘুরির পাশাপাশি সন্ধ্যা ও রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিনোদন এবং স্থানীয় ঐতিহ্য উপভোগ করতে চান। আমাদের বাউল গান, আঞ্চলিক সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য বৈচিত্র্যময় বিনোদনকেন্দ্র ও উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, যৌক্তিক বিমান ভাড়া, স্থানীয় সহজলভ্য পরিবহন, নিরাপত্তা ও বিনোদন–সব মিলিয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন প্যাকেজ প্রয়োজন। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকলেই পর্যটক আসবেন না; তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
খবরের কাগজ: বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা অঞ্চল গড়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কী?
মো. সামীমুজ্জামান: বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষায়িত অঞ্চল গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মালদ্বীপ, নেপাল ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিনোদন ও সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদেরও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে উপযুক্ত নীতিমালা, সামাজিক বাস্তবতা এবং দেশের আইন বিবেচনায় নিতে হবে। দেশি পর্যটকদের জন্যও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি।
খবরের কাগজ: চলমান সংকট কাটিয়ে সরকারি পর্যটন কেন্দ্রের স্থাপনাগুলোর উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাই?
মো. সামীমুজ্জামান: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের প্রায় ২৮-২৯টি অবকাঠামো ও হোটেল রয়েছে। সব স্থাপনা আন্তর্জাতিক মানের নয়। এগুলো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কক্সবাজারের শৈবাল হোটেলকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে আধুনিকায়ন এবং সেখানে পাঁচ ও সাত তারকা মানের হোটেলসহ বিনোদন সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে। এ জন্য ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের নিজস্ব জমিতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। কিছু স্থাপনা ইজারা দিয়ে সেগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। তবে শুধু ভালো হোটেল করাই যথেষ্ট নয়, পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদনকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় সেবাকেন্দ্র গড়তে হবে।
খবরের কাগজ: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ব্যবস্থাপনা কেমন হওয়া উচিত?
মো. সামীমুজ্জামান: এ খাতের বিকাশে সরকার একা সবকিছু করতে পারবে না। বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। বিনিয়োগকারী, স্থানীয় জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের সহজ শর্তে ঋণ, কর সুবিধা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ দেওয়া যেতে পারে। স্থানীয় জনগণকেও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন অবকাঠামো তৈরি হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সহজ হবে। পর্যটনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন ও বিদ্যমান নীতিমালার প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও জরুরি।
খবরের কাগজ: নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দূর করতে পরিকল্পনা কী?
মো. সামীমুজ্জামান: বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় কোনো ঘাটতি নেই। তবে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। দেশে প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, অথচ সব জায়গায় পর্যাপ্ত পর্যটন পুলিশ নেই। পর্যটনকেন্দ্রের সংখ্যা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যটন পুলিশসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানো দরকার। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় মানুষ পর্যটনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুক্ত হলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারাও ভূমিকা রাখবেন।
খবরের কাগজ: ২০২৪ সালের পর বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতা ও জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এসেছে। এসব ঘটনায় নেতিবাচক কোনো প্রভাব কী পড়েছে?
মো. সামীমুজ্জামান: রেভল্যুশনের পর যেকোনো দেশেই নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। নির্বাচিত সরকারের আমলে সেই প্রভাব কমে গেছে। বিদেশি পর্যটকদের আস্থা বাড়াতে দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরে নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক মনোভাবও পেয়েছি। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি খাত এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
খবরের কাগজ: বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দেরি, লাগেজ হারানো ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব সমাধানে সরকারের উদ্যোগ কী?
মো. সামীমুজ্জামান: অতীতে বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দেরি, লাগেজ হারানো এবং যাতায়াতে ভোগান্তির অভিযোগ ছিল। তবে সম্প্রতি আগের তুলনায় বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনায় উন্নতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর উদ্যোগে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে। বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বিমান সংস্থা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, নিরাপত্তা সংস্থা ও অন্য পক্ষ যুক্ত। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এসব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন মনে করছি।
খবরের কাগজ: পর্যটন খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে পরিকল্পনা কী?
মো. সামীমুজ্জামান: এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্যেও তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পর্যটনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। পর্যটন খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রের অবস্থান জানা, হোটেল বুকিং এবং পর্যটকদের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা আরও সহজ করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সেবা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরাও সহজ হবে।
খবরের কাগজ: জনবল বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে কী হচ্ছে?
মো. সামীমুজ্জামান: পর্যটন সেবানির্ভর শিল্প। এখানে পর্যটকদের সঙ্গে আচরণ, নিরাপদ খাবার, মানসম্মত আবাসন, যোগাযোগব্যবস্থা এবং আধুনিক বিনোদন সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটনের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। তবে সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা আধুনিকায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে দক্ষ জনবল তৈরি ও পর্যটনবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
খবরের কাগজ: কুয়াকাটা ও কক্সবাজারে পর্যটন কার্নিভালের আয়োজনের উদ্দেশ্য কী?
মো. সামীমুজ্জামান: কুয়াকাটায় ২৩ ও ২৪ অক্টোবর মূল কার্নিভাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২৫ অক্টোবর পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক কর্মসূচি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজারে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী কার্নিভালের পরিকল্পনা রয়েছে। তারিখে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
কক্সবাজারের কার্নিভালে–শৈবাল হোটেল প্রাঙ্গণে বিনোদন, খেলাধুলা, সুস্থতাবিষয়ক কার্যক্রম, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, কেনাকাটা, শিশুদের আয়োজন, প্রদর্শনী, উন্মুক্ত মঞ্চ, আকাশের নিচে চলচ্চিত্র প্রদর্শন, শিবির স্থাপন, উন্মুক্ত পাঠাগার ও খাবারের অঞ্চল রাখা হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাবার, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও থাকবে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের অন্যান্য পর্যটন আকর্ষণও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে চাই। বিশেষ করে নিদ্রারচর, বিজয়চর ও জাহাজমারার মতো তুলনামূলক কম পরিচিত স্থানগুলোকে পর্যটন মানচিত্রে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
খবরের কাগজ: খবরের কাগজের চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে পত্রিকাটির কাছ থেকে আপনার প্রত্যাশা কী?
মো. সামীমুজ্জামান: পর্যটনশিল্পের বিকাশ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ গণমাধ্যম হলো সমাজের দর্পণ। আমি দেখেছি, খবরের কাগজে পর্যটনশিল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। পর্যটন করপোরেশনের পক্ষে এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রতিষ্ঠানটির সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
আপনাদের লেখনীতে এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো আরও বেশি তুলে ধরবেন, যাতে দেশি-বিদেশি মানুষ বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে ‘চির উন্নত শির’ আপনাদের এবারের স্লোগানটিও খুব ভালো লেগেছে। প্রত্যাশা করি, খবরের কাগজ আগামী দিনেও এই চেতনাকে ধারণ করে সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।
