নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বুধবার (১৪ অক্টোবর) জানিয়েছে, বরফ ও পাথর ধসের কারণেই অতিসাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যাটি হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ বলেছে, এটি গত আগস্ট মাসে পাহাড় ধসে সুনামির মতো বিশাল জলোচ্ছ্বাসের ঘটনাটিরই পুনরাবৃত্তিকে নির্দেশ করে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
গত রোববারের এই আকস্মিক বন্যাটি হয় এর আগের প্রলয়ংকারী বরফ ও পাথর ধসের দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে। আগস্টের ওই ঘটনায় ১,৪০০ এরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়।
এসব ঘটনা নেপালের পার্বত্য ভূখণ্ডের তীরে মানুষের বসবাসের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নেপালের সাম্প্রতিক এই বন্যায় পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছে এবং মধ্য গোর্খা জেলায় ২০০টি ঘরবাড়ি ও পাঁচটি সেতু ভেসে গেছে।
প্রাথমিকভাবে এর জন্য ভূমিধসকে দায়ী করা হলেও ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে, তাদের বিশ্লেষণ অনুসারে দুর্বল শিলাযুক্ত প্রায় ৬ হাজার মিটার (১৯,৬৮৫ ফুট) উচ্চতার একটি এলাকায় বরফধসের ফলেই এই প্রলয়ংকারী ঢল নেমে আসে।
এই বিশ্লেষণের ফলাফল নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে উন্নত নজরদারি এবং আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বকে তুলে ধরে। এসব এলাকায় পাহাড়ি পারমাফ্রস্ট (স্থায়ী বরফ) গলে যাওয়ার কারণে আকস্মিক ধস বিধ্বংসী ঢল তৈরি করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি এএফপি-কে বলেন, ‘এই দুর্যোগের ধরনটি আমরা রসুয়ায় যা দেখেছি তার মতোই। যেভাবে ঘন ঘন এই ঘটনাগুলো ঘটছে, তা থেকে স্পষ্ট যে আমাদের পাহাড়গুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং আমাদের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থাগুলোকে আরও কার্যকর করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’
ধর্ম রাজ উপ্রেতি বলেন, কর্তৃপক্ষ বন্যার কিছু আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছিল, যা তাদের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে এবং হতাহতের সংখ্যা কমাতে সাহায্য করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছিল, যা নদীর গতিপথ রুদ্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে সেই ধ্বংসাবশেষ ভেঙে গিয়ে বুড়ি গণ্ডকি নদী ভাটির দিকে ফুলে-ফেঁপে ওঠে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ মিটার (৬৫-৮২ ফুট) উচ্চতার সবচেয়ে বড় প্লাবনের ধারাটি পরে সালেরিতে অবস্থিত জলবিদ্যুৎ ক্যাম্পটিতে আঘাত হানে এবং তা ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২৬ আগস্টের বন্যায় জলবায়ু পরিবর্তন একটি মূল ভূমিকা পালন করেছিল।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ গত মাসে জাতিসংঘে বলেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান বিপদ সম্পর্কে এই বন্যা ছিল বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
