রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেছেন, সব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও নির্ধারিত মান বজায় রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত হবে। এ জন্য পণ্যের গুণগত মান ও সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’ প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, কেনাবেচা ও লেনদেনে ওজন ও পরিমাপে কম না দেওয়া এবং একে অপরের অধিকার রক্ষা করা ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। তাই ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা ও মান বজায় রাখা জরুরি।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) প্রথম লক্ষ্য দারিদ্র্য বিমোচন এবং দ্বিতীয় লক্ষ্য ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব অর্জনে খাদ্যের সুষ্ঠু ব্যবহার ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে খাদ্য উৎপাদনের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ইঁদুর ও পোকামাকড়ের কারণে নষ্ট হয়। এ ছাড়া রান্না ও পরিবেশনের পর্যায়ে আরও প্রায় ১০ শতাংশ খাবার অপচয় হয়। বিশেষ করে বড় অনুষ্ঠানে বুফে ব্যবস্থায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার নেওয়ার প্রবণতায় প্রচুর খাবার নষ্ট হয়। এ ধরনের অপচয় রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএসটিআইয়ের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জহুরা সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফুল ইসলাম, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. হাসেন আলী এবং রাজশাহী ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা মামুন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
