Published on
:
2 min read
বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম
দেবীর ভোগে থাকে আমিষের নানা পদ। পাঁঠার মাংস, ইলিশ, কাতলা, চিংড়ি–সহ নানা রকমের মাছ ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে। সারা বছর সন্ন্যাসিনীদের হাতে পূজিত হন মা সারদা। তবে দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) কয়েকটা দিন দুর্গা রূপেই তাঁকে পুজো করা হয়। ঝাড়গ্রাম শহরে কন্যাগুরুকুল আশ্রম স্থাপনের কয়েক বছর পর থেকেই মা সারদাকে এ ভাবেই পুজো করে আসছেন আশ্রমের সন্ন্যাসিনীরা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে দেবীর আরাধনা হয় শ্রীরামকৃষ্ণ সারদাপীঠ কন্যাগুরুকুলে।
ষষ্ঠী থেকে হোম ও চণ্ডীপাঠ দিয়ে শুরু হয় পুজো। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দুর্গা আরাধনার আগেই চণ্ডী রূপে পূজিত হন মা সারদা। করা হয় চণ্ডীপাঠ। পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন কন্যাগুরুকুলের প্রবীণ সন্ন্যাসিনী পরিব্রাজিকা শুদ্ধহৃদয়া এবং চণ্ডীপাঠ ও তন্ত্রধারক রয়েছেন কন্যাগুরুকুলের সম্পাদিকা পরিব্রাজিকা আত্মহৃদয়া। শুক্রবার সন্ধ্যায় চণ্ডীপাঠ করতে দেখা দেখা যায় পরিব্রাজিকা আত্মহৃদয়াকে ও যজ্ঞ করেন পরিব্রাজিকা শুদ্ধহৃদয়া। চণ্ডী আরাধনায় ইলিশ, কাতলা, চিংড়ি সহ নানা মাছের পদের ভোগ নিবেদন করা হয়। সঙ্গে মিষ্টান্ন ভোগ। কন্যাগুরুকুলের সহ-সম্পাদক পরিব্রাজিকা অমৃতহৃদয়া জানান, ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় চণ্ডীপাঠ হোমের মধ্য দিয়ে চণ্ডী পুজোর শেষে মা সারদাতেই অধিষ্ঠ হন দেবী দুর্গা। তারপরই শুরু হয় দুর্গার আরাধনা। সপ্তমীর সকালে হয় মহাস্নান। সপ্তমী ও অষ্টমী পুজোয় সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে। অষ্টমী শেষে সন্ধিপুজো শুরু হতেই দেবীকে ভোগে দেওয়া হয় পাঁঠার মাংস, ইলিশ, কাতলা, চিংড়ি–সহ নানা মাছের একাধিক পদের রান্না করা ভোগ। নবমীতে দেবীর ভোগে আর মাংস দেওয়া হয় না। ইলিশ, কাতলা, চিংড়ি ও বিভিন্ন মাছের পদের রান্না করে ভোগ নিবেদন করা হয়। তবে, এখানে কোনও পশুবলির প্রথা নেই। তাই কলা বলি দেওয়া হয়। দশমীতে আর দুর্গা আরাধনা হয় না। দশমীর দিন থেকে ফের নিত্য পুজোর মতো পূজিত হন মা সারদা।
১৯৪৮ সালে ঝাড়গ্রাম শহরের জঙ্গল লাগোয়া এক প্রান্তে শ্রী রামকৃষ্ণ সারদাপীঠ কন্যাগুরুকুলের প্রতিষ্ঠা করেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন থেকে আসা স্বামী সর্বানন্দ। তাঁরই উদ্যোগে ১৯৫০ সালে এখানে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হয়। ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তিনি নিজেই পুজো করতেন। স্বামী সর্বানন্দ মহারাজ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ১৯৬২ সাল থেকে পুজোর দায়িত্ব পান আশ্রমের সন্ন্যাসিনীরা। মহাষষ্ঠীর দিন স্বামী সর্বানন্দ মহারাজের জন্মতিথি উপলক্ষে বিশেষ পুজো করা হয়। কন্যাগুরকুলের সম্পাদক পরিব্রাজিকা আত্মহৃদয়া বলেন, ‘সব মা তো মা–ই, সব মা এক। পুজোর প্রত্যেকটা দিনই ভক্তদের জন্য ভোগের আয়োজন করা হয়। পুজোর কয়েকটা দিন ভক্তের ঢল নামে কন্যাগুরুকুলে।’
