দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব কেটি জাকারাইয়া। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, এই পদে তার ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি হতে পারে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির। জনমত জরিপ ও বিশ্লেষকদের বিশ্লেষণ এমন আভাসই দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘এক সপ্তাহের’ প্রেস সচিব কেটি নানা বেফাঁস মন্তব্য ও কার্যকলাপ ট্রাম্পের পক্ষে যাচ্ছে না একেবারেই।
‘ভুয়া’ আইনজীবী কেটি
টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দেন কেটি। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি রক্ষণশীল অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সাধারণ আইন উপদেষ্টা হিসেবেও নিজের পরিচয় উল্লেখ করেছেন তিনি।
কিন্তু ৪১ বছর বয়সী কেটি গতকাল বৃহস্পতিবার স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার জন্য বাধ্যতামূলক বার পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
ট্রাম্প-সমর্থক হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমে দেওয়া তিনটি সাক্ষাৎকারেও আইনজীবী পরিচয় নিয়ে বিতর্ক প্রশমিত করতে পারেননি তিনি।
চীনের শৌচাগার নিয়ে অদ্ভুত মন্তব্য
বৃহস্পতিবার চীনকে অবজ্ঞা করে এক মন্তব্যের জেরে নতুন বিতর্কের জন্ম দেন কেটি। ২০১৬ সালে স্বামীর সঙ্গে চীনে থাকার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তখন অনেকেরই ধারণা ছিল চীন শিগগির যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে।
ডানপন্থি ইনফ্লুয়েন্সার জ্যাক পোসোবিচকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেটি বলেন, ‘সেখান থেকে ফিরে আমি ভাবছিলাম, চীন কীভাবে পরবর্তী শক্তিধর দেশ হতে যাচ্ছে? তাদের তো ঠিকঠাক শৌচাগারও নেই।’
এই মন্তব্যের জবাবে শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং ‘আরও বেশি করে চীন সফর করার’ পরামর্শ দেন কেটিকে।
প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়েই বিপর্যয়
হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং কক্ষে প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই হিমশিম খেতে দেখা গেছে কেটিকে। মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ ব্রিফিং হয় মাত্র ১৫ মিনিটের মতো। সেখানেও বেশির ভাগ সময় অস্বাভাবিক ধীরগতিতে ট্রাম্পের সাফল্যের তালিকা পড়ে শোনান তিনি।
ট্রাম্প ও তার নতুন প্রেস সচিব কেটি। ছবি: রয়টার্স
এরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে মাত্র তিনজনের প্রশ্নের উত্তর দেন কেটি।
তবে তার কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, কেটি ‘খুব ভালো’ কাজ দেখিয়েছেন।
ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থক ও প্রায়শই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য পরিচিত প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন কেটি। গত আগস্টে পদত্যাগ করেন ক্যারোলিন।