বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সদর হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে জুই নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে শোবার ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে জুইয়ের কথিত স্বামী মাসুদ খান পলাতক রয়েছেন।
নিহত জুই (২৮) পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পত্তাসী গ্রামের এনায়েত শরীফের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সের পেছনে ফরিদ ফরাজীর বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুই কক্ষের একটি টিনশেড বাসা ভাড়া নেন জুই ও মাসুদ। বাসায় ওঠার পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। পারিবারিক কলহ ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে জুই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।
নিহতের বড় বোন জুলি বেগম বলেন, ‘প্রায় ১২-১৩ বছর আগে শরণখোলার পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আনোয়ার হাওলাদারের সঙ্গে জুইয়ের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ১১ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে মাসুদের সঙ্গে জুইয়ের সম্পর্কের ব্যাপারে পরিবারের লোকজন বিস্তারিত কিছু জানতেন না।’
জুলি বেগম আরও বলেন, ‘মাসুদ আমার বোনকে প্রচুর নির্যাতন করত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই দিন আগেও সে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেখে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। তখন তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং আমরা জুইয়ের মেয়েটিকে আমাদের কাছে নিয়ে আসি। আমার বোন হত্যার বিচার চাই, আমরা থানায় মামলা করব।’
বাড়ির মালিক ফরিদ ফরাজী জানান, ‘ভাড়া ওঠার পর থেকে প্রতিনিয়ত তাদের ঝগড়াঝাঁটির কারণে অন্য ভাড়াটিয়ারা বিরক্ত হচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলা হলেও তারা বাসা ছাড়েননি।’
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে জুই তার ফেসবুক লাইভে যে ভিডিও রেকর্ডটি রেখে গেছেন। সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ওসি বলেন, ‘কথিত স্বামী মাসুদ খানকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।’
ঘটনার পর থেকে পলাতক মাসুদ খানের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
