

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ১৪০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করেছে পুলিশ।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা সদরের মেনকিফান্দা গ্রামে সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেনসিডিল জব্দ করেছে পুলিশ।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি হাফিজুল ইসলাম প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে দুর্গাপুর থানার এস আই রসুল সায়েদী আজাদের নেতৃত্বে এস আই মোঃ স্বপন মিয়া, এসআই আসাদুজ্জামান, এএসআই আব্দুল কাইয়ুম ফকিরসহ সঙ্গীয় ফোর্স মেনকিফান্দা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে ইমান আলীর বসত বাড়ির পূর্ব পাশের পুকুর পাড়ে দুইটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগের ভেতর ১৪০ বোতল আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ফেনসিডিল মালিক বিহীন অবস্থায় জব্দ করেছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চন্দনাইশে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত
‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে শিশু বিবাহ প্রতিরোধ, কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চৈতী বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঝন্টু বিকাশ চাকমা, চন্দনাইশ থানার অফিসার এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আজাদ হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মোহাম্মদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার রশ্মি চাকমা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী আক্তার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আ ন ম ছালেহউদ্দিন, প্রাথমিক ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর আক্তার সানজিদা জাফর পপি, বরগুনি বিট কর্মকর্তা রহমত আলীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, শিশু বিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশের পথে বড় বাধা। শিশু বিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি কন্যাশিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। বক্তারা আরও বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচলিত আইন বাস্তবায়ন এবং বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার মাধ্যমে শিশু বিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। অনুষ্ঠানে শিশু বিবাহ প্রতিরোধ এবং কন্যাশিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

ঝালকাঠিতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালন
‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্ব জয়’ প্রতিপাদ্যে ঝালকাঠিতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় র্যালি, আলোচনা সভা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি মো. শাখাওয়াত হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. বশির গাজী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দিলারা খানম। এছাড়াও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও রুম টু রিডের প্রতিনিধিরা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চামটা বি কে ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চারুখান ডি এস দশগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এতে চারুখান ডি এস দশগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিজয়ী হয়। পরে বিজয়ী ও বিজেতাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি মেহেদি হাসান সোহাগ মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন। সভায় বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করতে হবে এবং তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। কন্যাশিশুরা যেন নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে এবং নিজেদের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে পারে, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

চেক জালিয়াতির মামলায় লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক কারাগারে
চেক চুরি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির দায়ে লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকালে জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র রেজাউল হক এই আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. ফিরোজ আলম। ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম, রায়পুর উপজেলার, উদমদমারা গ্রামের ইউসুফ আলীর স্ত্রী। আইনজীবী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদার আত্মীয় মরিয়ম বেগমের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে তার সাউথইস্ট ব্যাংক হায়দারগঞ্জ শাখায় খোলা একাউন্টের অনুকূলে ইস্যুকৃক চেক চুরি করে নিয়ে যান। পরে ঐ চেকে ৩৬লক্ষ ৮২হাজার টাকা উল্লেখ করে তিনি নিজেই মরিয়ম বেগমের স্বাক্ষর দিয়ে টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে পাঠান। সন্দেহ ও স্বাক্ষরে অমিল দেখে গ্রাহককে অবগত করেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এঘটনায় মরিয়মের স্বমী ইউসুফ আলী বাদী হয়ে হুমায়ুন করির হাওলাদার ও আব্দুস শহীদকে বিবাদী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৪৮১/২৫খ্রিঃ। তদন্তের জন্য মামলাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লক্ষ্মীপুরকে দায়িত্ব প্রদান করেন আদালত। দীর্ঘ তদন্ত ও সিআইডির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে, চেকে দেওয়া স্বাক্ষর গ্রাহক মরিয়ম বেগমের নয় তা হুমায়ুন কবির হাওলাদারের। পরে আদালত বিবাদীদের প্রতি গ্রেফতারি পরওনা জারি করেন। রবিবার (১১ অক্টোবর) হুমায়ুন কবির হাওলাদার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষ আদালত এডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদারকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এ মামলার অপর আসামি পালাতক আছেন। এ সময় বাদী পক্ষের শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মো. ফিরোজ আলম। বিবাদী পক্ষে আইনজীবী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, সিনিয়র আইনজীবী মো. হাসান, মিজানুর রহমান মুন্সী প্রমুখ। জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার এদিন প্রতিবেদককে বলেন, বিজ্ঞ আদালত বারের সভাপতি হিসেবে বিষয়টি সমঝোতা করার জন্য আমাকে দায়িত্ব প্রদান করেন। আমরা ৭দিনের সময় চেয়েছি কিন্তু বাদী পক্ষ তাৎক্ষণিক প্রতিকার চাওয়ায় আর সমঝোতা হয়নি।

মান্দায় হানি ট্র্যাপে ৬২ বছরের বৃদ্ধ, আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ১
নওগাঁর মান্দায় ছেলের জন্য পাত্রী দেখানোর কথা বলে ৬২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে ডেকে নিয়ে মারধর, নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. জাকারিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় মান্দা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও মান্দা ও মোহনপুর থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা মীর মো. আনোয়ার হোসেনকে (৬২) তাঁর ছেলের জন্য পাত্রী দেখানোর কথা বলেন পূর্বপরিচিত এক নারী। সেই সূত্র ধরে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, আগে থেকেই পরিকল্পনা করে জাকারিয়া ও তাঁর সহযোগীরা ওই বৃদ্ধকে ফাঁদে ফেলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁকে কিল, ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মেরে জোরপূর্বক অপর এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে এসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্তরা। শুধু তা-ই নয়, চাঁদার টাকা আদায়ের জন্য বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। এদিকে স্বজনেরা চাঁদার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কৌশলে ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মীর মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রোববার (১১ অক্টোবর) মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ও ৮(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। মামলার নম্বর ১১। মামলা দায়েরের পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মোহনপুর ও মান্দা থানায় আগে থেকেই তিনটি মামলা রয়েছে। মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, ‘নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম স্যারের নির্দেশনায় অপরাধ দমন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। বৃদ্ধকে হানি ট্র্যাপে ফেলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আগেও তিনটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মান্দা থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

মান্দায় ১২৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের মতবিনিময়
নওগাঁর মান্দায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে থানা পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে মান্দা থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নওগাঁ জেলা শাখার আহ্বায়ক ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর কুমার বিশ্বজিৎ সরকার। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) বিজন কুমারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন ঠাকুরমান্দা রঘুনাথ জিউ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সত্যেন্দ্রনাথ প্রামাণিক, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মলয় কুমার ঘোষ, মণ্ডপ কমিটির সভাপতি সুকমল চন্দ্র দাস, তৃপ্তিশ কুমার মণ্ডল ও অনুপ কুমার কুণ্ডু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে যেন সবাই পূজা উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। সভায় পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা, স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব পালন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপনে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১২৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


