আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুগামীর সংখ্যা ১৪ লক্ষেরও বেশি। ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে তামিল ভাষায় অর্থনীতি সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে পরিচিতি তৈরি করেছিলেন তিনি।
সেই জনপ্রিয় ফিনান্স ইনফ্লুয়েন্সারের ভি.হরিশের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল চেন্নাইয়ে। মঙ্গলবার রাতে তাঁর বাড়ি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ঘটনা বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা।
তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘Finance With Harish’ নামে চ্যানেলে থেকে ভিডিও আপলোড করতেন হরিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চেন্নাইয়ের কাছে ইস্ট কোস্ট রোডের কানাথুর এলাকায় থাকতেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার।
তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করার পর ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের তরফে কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের আর্থিক বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন হরিশ। মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রেডিং-সহ বিভিন্ন আর্থিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়ে তামিল ভাষায় ভিডিও তৈরি করতেন।
ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের দাবি, গত পাঁচ বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হরিশ। ধীরে ধীরে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা বেড়ে ১৪ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। তবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া আর্থিক পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে নিশানা করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ।
সম্প্রতি তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। মেটা কর্তৃপক্ষ ওই অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
মৃত্যুর আগে আপলোড করা তাঁর একটি ভিডিও ঘিরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, SEBI-র কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভিডিওতে ওই ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেন, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি এই কাজ করছেন।
কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়তে থাকায় কিছু মানুষের হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। এমনকী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে পরিচয় থাকার দাবি করে তাঁর ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য ছিল, এই ধরনের সাইবার বুলিংয়ের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারীদের বক্তব্য, কোনও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাছে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হারানো বড় ধাক্কা হতে পারে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=3QkNYyh3xTaQ6cYQ
এর ফলে বছরের পর বছর ধরে তৈরি করা কাজ, উপার্জন, সব কিছুই একসঙ্গে হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা তৈরি হয়। উল্লেখ্য, নিজের কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছিলেন হরিশ। ২০২৫ সালে চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি সংস্থার দেওয়া ‘বেস্ট ফিনান্স চ্যানেল’ পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।
