বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় সৈয়দ আবুল মকসুদ ছিলেন এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। ক্ষমতার সমালোচনা, সত্যের অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে তাঁর লেখালেখি তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। গবেষণা, যুক্তিনিষ্ঠ বিশ্লেষণ ও নির্ভীক অবস্থানের মধ্য দিয়ে তিনি বারবার প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করেছেন। তাঁর কাছে সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের অসংগতি তুলে ধরা এবং মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর দায়বদ্ধতা। মৃত্যুর পরও তাঁর চিন্তা ও কর্মের প্রাসঙ্গিকতা ফুরিয়ে যায়নি। বর্তমান সময়ে স্বাধীন সাংবাদিকতা, বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা এবং তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়ে তাঁর জীবন ও দর্শন নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে। এসব প্রসঙ্গে সৈয়দ আবুল মকসুদের স্মৃতি, আদর্শ ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জুবায়ের দুখু।
রাইজিংবিডি: সৈয়দ আবুল মকসুদের সঙ্গে আপনার কোনো বিশেষ স্মৃতি দিয়ে শুরু করতে চাই। তাঁর সঙ্গে আপনার পরিচয় কীভাবে হয়েছিল? তাঁর কোন স্মৃতিটি আজও আপনার মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কাটে?
আলমগীর কবির: সৈয়দ আবুল মকসুদের সঙ্গে আমার নানা সময়ে নানা স্মৃতি রয়েছে। কখনো রাজপথে, কখনো সভা-সেমিনারে, কখনো বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তবে তাঁর সঙ্গে আমার একটি বিশেষ স্মৃতি রয়েছে, যা আজও আমাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে।
একবার তিনি আমার গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি শুধু বেড়ানো বা অবসর কাটানোর মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বরং গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা, গ্রামীণ অবকাঠামো, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন।
আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল, গ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড়ভাবে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা। তিনি নিম্নবর্ণের মানুষ, আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের সুখ-দুঃখ, অভাব-অভিযোগ, জীবিকা এবং জীবনসংগ্রামের কথা জানার চেষ্টা করেছেন। কখনো তরকারি বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলেছেন, কখনো স্কুলের ছোট ছোট শিশুদের সঙ্গে, কখনো শিক্ষকদের সঙ্গে। প্রতিটি মানুষের কাছ থেকেই তিনি যেন কিছু জানতে চাইছিলেন, তাঁদের জীবনকে আরও গভীরভাবে বুঝতে চাইছিলেন।
তিনি চাইলে আমার গ্রামে গিয়ে নিছক অবসর কাটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর প্রতিটি কথোপকথন, মানুষের সঙ্গে প্রতিটি যোগাযোগের মধ্যেই ছিল চিন্তার খোরাক, সমাজকে জানার আগ্রহ এবং মানুষের জীবনকে উপলব্ধি করার এক গভীর প্রচেষ্টা।
এই বিষয়টি আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করেছিল। আমার বড় ছেলে এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিস্মিত হয়েছিলেন, কী অসাধারণভাবে তিনি এত মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে পারেন, তাঁদের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন এবং তাঁদের জীবনের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারেন।
আমার কাছে এই স্মৃতিটি শুধু একজন মানুষের গ্রামে বেড়াতে আসার স্মৃতি নয়; বরং এটি একজন মানুষের আদর্শ, মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনকে জানার ও বোঝার আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য উদাহরণ। সৈয়দ আবুল মকসুদের এই গুণটি আমার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে, যা আজও আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
রাইজিংবিডি: সৈয়দ আবুল মকসুদ ছিলেন সত্যসন্ধানী ও নির্ভীক কলমযোদ্ধা। বর্তমান সময়ে তাঁর সাংবাদিকতা ও লেখালেখি থেকে আমরা কী শিক্ষা নিতে পারি?
আলমগীর কবির: সৈয়দ আবুল মকসুদের সাংবাদিকতা থেকে আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব ক্ষমতাকে সন্তুষ্ট করা নয়, বরং জনগণের কাছে সত্য তুলে ধরা।
তিনি দেখিয়েছেন, একজন সাংবাদিকের কাজ কেবল ঘটনা বর্ণনা করা নয়; ঘটনার পেছনের কারণ এবং সত্য অনুসন্ধান করা, ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্ন তোলা এবং সমাজের বিবেককে জাগ্রত করাও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আবুল মকসুদ সেই কাজটি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে করে গেছেন।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক সময় যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থকে জনস্বার্থের ওপরে স্থান দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা জানি, আবুল মকসুদ এসব ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকেই সবার ঊর্ধ্বে প্রাধান্য দিতেন। তিনি তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতেন, যার জন্য প্রয়োজন নৈতিক সাহস।
আমার বিশ্বাস, সাংবাদিকতা তখনই সার্থক হয়, যখন তা দুর্বল মানুষের পক্ষে কথা বলে, অন্যায়কে প্রশ্ন করে এবং রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও মানবিক করে তোলার চেষ্টা করে।
রাইজিংবিডি: আবুল মকসুদ তাঁর লেখায় ক্ষমতার সমালোচনা করেছেন এবং প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করেছেন। বর্তমান বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তাঁর মতো স্বাধীনচেতা ও যুক্তিনিষ্ঠ কণ্ঠস্বর কতটা প্রয়োজন বলে মনে করেন?
আলমগীর কবির: বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সৈয়দ আবুল মকসুদের মতো বস্তুনিষ্ঠ, স্বাধীনচেতা, গবেষণানির্ভর ও যুক্তিনিষ্ঠ কণ্ঠস্বর অত্যন্ত প্রয়োজন।
গণমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি শুধু সংবাদ প্রচারে নয়; বরং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার সক্ষমতায়। রাষ্ট্রের মৌলিক অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলাও বড় দায়িত্ব। সরকার, রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠী, কারও কর্মকাণ্ডই সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা উচিত নয়।
তবে সমালোচনা হতে হবে তথ্যনির্ভর, যুক্তিসংগত ও দায়িত্বশীল। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেই তা সাংবাদিকতা হয়ে যায় না। প্রমাণ, অনুসন্ধান, নৈতিকতা এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার মানসিকতা থাকতে হবে।
সৈয়দ আবুল মকসুদের প্রাসঙ্গিকতা এখানেই। তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা মানে শুধু কথা বলার স্বাধীনতা নয়; সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতাও।
“বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক সময় যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থকে জনস্বার্থের ওপরে স্থান দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা জানি, আবুল মকসুদ এসব ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকেই সবার ঊর্ধ্বে প্রাধান্য দিতেন। তিনি তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতেন, যার জন্য প্রয়োজন নৈতিক সাহস।”
রাইজিংবিডি: মাওলানা ভাসানীকে নিয়ে সৈয়দ আবুল মকসুদের গবেষণা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই গবেষণা থেকে বর্তমান প্রজন্মের তরুণেরা কী শিখতে পারে?
আলমগীর কবির: মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণনেতা হিসেবে দেখেছেন সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ। ভাসানীকে নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন এবং তাঁর জীবন, রাজনীতি, দর্শন ও সংগ্রাম নিয়ে একাধিক বই লিখেছেন। তাঁর রচনায় ভাসানী কেবল দলীয় নেতা নন; তিনি ছিলেন কৃষক, শ্রমিক ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামী জননেতা।
ভাসানীর জীবনী বর্তমান তরুণদের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে নতুন করে তুলে ধরা ভীষণ জরুরি। কারণ, একটি দেশের ভবিষ্যৎ শুধু তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; সেই দেশের তরুণেরা কতটা মানবিক, দায়িত্বশীল, বিবেকবান ও ন্যায়নিষ্ঠ, তার ওপরও নির্ভর করে। ভাসানী শিখিয়েছেন, নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য বাঁচতে শিখতে হবে।
মাওলানা ভাসানী সাধারণ মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছেন। কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে কাজ করেছেন। বর্তমান তরুণদের সামনে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করার মতো এবং জনমানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য নিবেদিত যোগ্য নেতৃত্বের অভাব রয়েছে।
ফলে, ভাসানীর জীবনাদর্শ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান প্রজন্মের চর্চায় নিবিড়ভাবে ধারণ করতে হবে।
রাইজিংবিডি: সৈয়দ আবুল মকসুদ সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে লিখতেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। বর্তমান সময়ে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ও দায়িত্বের সঙ্গে তাঁর আদর্শের কী পার্থক্য দেখতে পান?
আলমগীর কবির: সৈয়দ আবুল মকসুদের আদর্শের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক ন্যায়নিষ্ঠতা ও স্বাধীনতা। একজন বুদ্ধিজীবীর প্রধান পরিচয় কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য নয়; বরং সত্য, যুক্তি ও মানবিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা। নিউজ হাউসে কাজ করছি বলে হাউসের মালিকের মতামতকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে, এমন দাসত্ব মেনে নিয়ে আর সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখা সম্ভব নয়।
আমাদের সমাজে অনেক সময় বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েন। কেউ ক্ষমতাসীনদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে অনীহা দেখান, আবার কেউ বিরোধী পক্ষের অন্যায়কে উপেক্ষা করেন। এতে বুদ্ধিবৃত্তিক নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে, রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন হলে নৈতিকতা হারানো সাংবাদিকদের বিপদে পড়তে হয়।
তবে সৈয়দ আবুল মকসুদের আদর্শ ছিল ব্যতিক্রমী। তিনি স্বাধীন সাংবাদিকতায় নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দেননি। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি শিখিয়েছেন, নিজের পছন্দের পক্ষ অন্যায় করলেও তার সমালোচনা করতে হবে। সত্যকে কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা যাবে না।
রাইজিংবিডি: সৈয়দ আবুল মকসুদের ব্যক্তিত্বের কোন দিকটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করত? তাঁর চিন্তাভাবনা ও জীবনযাপন থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
আলমগীর কবির: সৈয়দ আবুল মকসুদের ব্যক্তিত্বের যে দিকটি আমাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করত, তা হলো তাঁর সরলতা, মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশে গিয়ে তাঁদের আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা। অন্যদিকে, চিন্তার স্বাধীনতা, সময়ের প্রতি সজাগ থাকা এবং নৈতিক অবস্থানের প্রতি অঙ্গীকারও ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক।
তিনি শুধু সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখেননি; ইতিহাস, রাজনীতি, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং সমাজের বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি উপলব্ধি করিয়ে গেছেন, একজন লেখকের শক্তি শুধু ভাষার সৌন্দর্যে নয়, তাঁর চিন্তার গভীরতা এবং সত্য অনুসন্ধানের নিষ্ঠার মধ্যেও নিহিত। একটি কঠিন বিষয়কে সহজ-সরল ভাষায় উপস্থাপনে তাঁর জুড়ি মেলা ভার।
তাঁর চিন্তা ও সাধারণ জীবনযাপন থেকে আমরা শিখেছি, ব্যক্তিগত সুবিধা বা জনপ্রিয়তার চেয়ে নীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি জ্ঞান, যুক্তি, সততা ও দীর্ঘমেয়াদি কাজের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
রাইজিংবিডি: আজ তিনি বেঁচে থাকলে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কী ধরনের লেখা লিখতেন বলে আপনার মনে হয়? কোন বিষয়গুলো তাঁর লেখায় বেশি গুরুত্ব পেত?
আলমগীর কবির: মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং তাঁর চিন্তাশীল লেখালেখি, গবেষণা ও জনপরিসরে অবস্থানের আলোকে বলা যায়, সুশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য এবং পরিবেশবিনাশের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তিনি গভীরভাবে লিখতেন।
রাষ্ট্রের উন্নয়ন সাধারণ মানুষের জীবনে উপকারে আসছে কি না, স্বাধীনভাবে চিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে কি না, এমন নানা মৌলিক প্রশ্নের পাশাপাশি আমাদের নদী, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন করছে কি না, সেসব বিষয়ও তাঁর লেখায় গুরুত্ব পেত বলে মনে করি।
রাইজিংবিডি: সৈয়দ আবুল মকসুদ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর লেখা ও কাজ রয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁকে পরিচিত করে তুলতে আমাদের কী করা উচিত?
আলমগীর কবির: নতুন প্রজন্মের কাছে সৈয়দ আবুল মকসুদকে পরিচিত করার জন্য শুধু জন্মদিন বা মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভার আয়োজন করলেই যথেষ্ট হবে না। তাঁর লেখা ও চিন্তাকে তরুণদের দৈনন্দিন পাঠচর্চা এবং সামাজিক আলোচনার অংশ করে তুলতে হবে। তাঁর রচিত বই এবং তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত বই তরুণ প্রজন্মের পাঠাভ্যাসের অংশ করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ, গবেষণা ও সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করে সহজলভ্য করতে হবে।
তাঁর চিন্তা ও লেখার সারাংশ, আলোচনা এবং প্রামাণ্য তথ্য তরুণদের উপযোগী ডিজিটাল মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।
