ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রকাশ্য মারামারি ও ধস্তাধস্তির ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত সেই শিক্ষক দম্পতিকে উপজেলার দুই প্রান্তের দুটি ভিন্ন বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বদলির আদেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ কর্মস্থলে গড়ায় এবং তাদের মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
নতুন বদলির আদেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনকে উপজেলার দক্ষিণ প্রান্তের কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং তার স্বামী তথা একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে উত্তরের বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ৫ অক্টোবর ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ওই শিক্ষক দম্পতির মধ্যে সংঘটিত ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৪ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যিনি বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কলহের জেরে গত প্রায় ১৪ বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করে আসছেন এবং তাদের মধ্যে আইনি লড়াইও চলমান রয়েছে। দুজনেই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের পারিবারিক এই দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত পেশাগত শিষ্টাচারকে ছাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডির ভেতর প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেয়, যা মাঝেমধ্যেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের নজরে আসতো।
আলোচিত এই ঘটনার পর শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. ইকবাল হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে ঘটনার দৃশ্য স্পষ্ট ছিল। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মনোমালিন্য থাকলেও ওই দিন পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়টির এক সাবেক শিক্ষক, যিনি পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে ফ্রান্সে চলে গেছেন, তার মাধ্যমেই মূলত অফিসকক্ষের সিসি ক্যামেরা বা গোপনে ধারণকৃত ওই ভিডিওটি বাইরে ছড়িয়ে পড়ে।
