যেন চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় ছিলেন লিটন দাস। অবশ্য শুধু লিটন নন, অপেক্ষায় ছিল পুরো বাংলাদেশই। অপেক্ষাটা ছিল উইকেটের। কখন সুযোগ পেয়ে আফগানিস্তানের উইকেট লুফে নিবে বাংলাদেশ।
তবে সেই সুযোগ দিচ্ছিল না আফগানার। আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিন দারুণ শুরু করে তারা। প্রথম সেশনে তাই উইকেটের খোঁজে মাথা কুটতে থাকে বাংলাদেশ। তবে লাঞ্চে যাওয়ার এক ওভার আগে দিনের প্রথম সাফল্য পাওয়ার সুযোগ পায় বাংলাদেশ।
সুযোগ লুফে নেওয়ার কজাটা অবশ্য সহজ ছিল না। তবে আবুধাবি টেস্ট যেহেতু লিটনের, তার কাছে অসাধ্য আর কি হতে পারে? সেটাই হলো। অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ লুফে নিলেন তিনি।
ইবাদত হোসেনের করা ৭৮তম ওভারের প্রথম বলে হুক শট খেলার চেষ্টা করলেন ইকরাম আলিখিল। ব্যাটের কোনায় লেগে দূর দিয়ে লিটনকে পেরিয়ে যাচ্ছিল বল, তা দেখে বাজপাখির মতো ডানদিকে লাফ দিয়ে বাঁহাতি ব্যাটারের ক্যাচ লুফে নিলেন উইকেটরক্ষক। যেন চোখের প্রশান্তি। তাতে মুগ্ধ হয়ে উল্লাসে মাতল পুরো দল।
যেন অবশেষে পাইলাম তারে। হ্যাঁ, এমনটাই। গত দিনের ৩ উইকেটে ১৩২ রানের স্কোর নিয়ে আজ খেলতে নেমে দারুণ ব্যাটিং করছিল আফগানিস্তান। তার যেন পণ করেছিল শেষ দিনে উইকেট হারাবে না। সেই লক্ষ্যে প্রথম সেশন বিনা উইকেটে শেষ করার পথে ছিল তারা। তবে লিটনের চোখ ধাঁধানো ক্যাচ তা হতে দেয়নি।
ব্যক্তিগত ৩৩ রানে ইকরাম আউট হতেই সেদিকউল্লাহ অতলের সঙ্গে ভেঙে যায় দুজনের ৬৬ রানের জুটি। সতীর্থ আউট হলেও ওপেনিং নেমে ৬৬ রানে অপরাজিত আছেন সেদিকউল্লাহ। তাকে সঙ্গ দিতে নেমেছেন ইসমাত আলম। রানের খাতা এখনো খুলতে পারেননি তিনি।
এর আগে ধাক্কা খেয়েছে আফগানিস্তান। দিনের খেলার তৃতীয় ওভারে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়েন হাশমতউল্লাহ শহিদী। রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের থ্রো তার পায়ে লাগলে ২০ রানে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
লাঞ্চে যাওয়ার সময় আফগানিস্তানের স্কোর ৪ উইকেটে ২০৩ রান। শেষ দুই সেশনে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ২৭৬ রান। বিপরীতে বাংলাদেশের চাই ৬ উইকেট। শেষটায় রোমাঞ্চ অপেক্ষা করে কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
