ইয়েমেন সংকট নিয়ে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) প্রস্তাবে ন্যায্যতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত না হলে তাতে সমর্থন না দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, বাগদাদে ওআইসি বৈঠকে ইয়েমেন ইস্যুতে একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। তবে তেহরানের বিবেচনায় এতে ন্যায্যতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত না হলে ইরান প্রস্তাবটির সঙ্গে একমত হবে না।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাগদাদে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং সপ্তম দিনে আলোচনা শুরু করা সম্ভব।
ওআইসির এই বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইয়েমেন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরব তাদের মতামত জানিয়েছে। আমরাও এবং অন্যান্য দেশও নিজেদের মতামত তুলে ধরেছি।
তিনি জানান, প্রস্তাবটির চূড়ান্ত খসড়া এখনো তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি, এই প্রস্তাব ও চূড়ান্ত বিবৃতিতে ন্যায্যতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা হবে। স্বাভাবিকভাবেই, তা না হলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এই প্রস্তাবে যোগ দিতে পারবে না।
আরাগচি বলেন, ওআইসির সদস্যদেশগুলোর একটি বড় অংশের অবস্থান সৌদি আরবের কাছাকাছি। তবে তেহরান অন্য সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করেছে। বৈঠকে দেয়া তার বক্তব্যেও ইয়েমেন সংকটের সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকে দেশটিতে সংঘাত চলছে। এর জেরে ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই সংঘাত সৌদি আরবেও ছড়িয়ে পড়েছে। জুলাইয়ে হুতিরা সমুদ্রপথে অবরোধের ঘোষণা দেয়ার পর সৌদি আরবে হামলা চালায় গোষ্ঠীটি। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে দেশটির তেল অবকাঠামোও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আরাগচি বলেন, তেহরান তাদের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, এটি ‘সাত দিনের পরিকল্পনার’ অংশ। যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। তবে সেই বক্তব্যের জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
আরাগচি বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে সাত দিনের পরিকল্পনাটি এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা থাকলে সমাধানের পথ পরিষ্কার। তবে তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের সেই আন্তরিকতা আসলে নেই)। তারা শর্তগুলো পূরণ করলে ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালিটি খুলে দেয়া হবে এবং সপ্তম দিনে আলোচনা শুরু হবে।
বাগদাদে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশন চলাকালে এসব কথা বলেন আরাগচি। এই অধিবেশনে তুরস্কের কাছ থেকে পরিষদের ঘূর্ণায়মান সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছে ইরাক। বৈঠকে ৫৭ সদস্যের এই সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের পরিস্থিতিসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেখানে।
আরাগচি আরও বলেন, প্রতিবেশী ইরাককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় ইরান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওআইসির নতুন মহাসচিব নিয়োগের পাশাপাশি ইরাকের সভাপতিত্ব সংস্থাটিকে ‘নতুন গতি’ দেবে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার বিরোধ মেটাতে ওআইসি গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করে তেহরান।
খুলনা গেজেট/এএজে
