ভ্রমণে গিয়ে অনেক সময় নানা রকম বিপদের মুখে পড়তে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে অগ্নিকাণ্ড। তাই অগ্নি দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকতে হোটেল, রিসোর্ট বা ভ্রমণের সময় কিছু জরুরি সতর্কতা মেনে চলা উচিত। তা হলো-
হোটেল বা রিসোর্টে ওঠার পর যেসব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, তা হলো-
জরুরি বের হওয়ার পথ চিনে রাখা: রিসোর্ট বা হোটেলে চেক-ইন করার পর রুমের আশপাশের সব জরুরি নির্গমনের পথ এবং সিঁড়ি কোথায় আছে তা ভালো করে দেখে নিন।
দরজার দূরত্ব মনে রাখা: আপনার রুম থেকে ইমার্জেন্সি এক্সিট পর্যন্ত কতটি দরজা আছে তা গুনে রাখুন- যাতে অন্ধকারেও হাতড়ে পথ বের করতে পারেন।
রুমের চাবি কাছে রাখা: ঘুমানোর সময় রুমের চাবি বা কার্ডটি সব সময় বিছানার কাছে রাখুন, যাতে আগুন লাগলে দ্রুত নিয়ে বের হতে পারেন।
স্মোক অ্যালার্ম পরীক্ষা করা: রুমে স্মোক অ্যালার্ম বা ফায়ার স্প্রিংকলার সিস্টেম কাজ করছে কি না দেখে নিন। অ্যালার্ম বাজলে সঙ্গে সঙ্গে তা সত্যি বলে ধরে নিন এবং বের হয়ে যান।
আগুন লাগলে যা করতে হবে, তা হলো-
লিফট ব্যবহার না করা: আগুন লাগলে ভুলেও লিফট ব্যবহার করবেন না, সব সময় সিঁড়ি ব্যবহার করুন। একতলা ভবন হলে দরজা বা বিকল্প পথ ব্যবহার করুন।
দরজা পরীক্ষা করা: রুমের দরজা খোলার আগে হাতের পেছনের পিঠ দিয়ে দরজার হাতলটি স্পর্শ করে দেখুন। হাতল গরম থাকলে বুঝবেন ওপাশে আগুন আছে, তখন দরজা না খুলে বিকল্প পথ খুঁজুন।
নিচু হয়ে হাঁটা: ধোঁয়া হালকা হয়ে ওপরে ওঠে। তাই ধোঁয়ার মধ্যে পড়লে হামাগুড়ি দিয়ে বা নিচু হয়ে মেঝের কাছ দিয়ে নিরাপদ স্থানে যান। নাক-মুখ ভেজা তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।
প্রধান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা: রিসোর্টের কর্মী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ থাকলে দ্রুত মেইন সুইচ এবং গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগ বন্ধ করে দিতে হবে।
জরুরি সেবায় কল করা: নিরাপদে বের হয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করুন।
ক্যাম্পিং বা অন্যান্য আয়োজনে যেসব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, তা হলো-
ক্যাম্পফায়ার বা আগুন ব্যবহার: ক্যাম্পিং করার সময় নির্ধারিত স্থানে আগুন জ্বালান এবং স্থান ত্যাগ করার আগে আগুন সম্পূর্ণ নিভেছে কি না নিশ্চিত করুন।
বৈদ্যুতিক ডিভাইস: পাওয়ার ব্যাংক, ল্যাপটপ বা চার্জার ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে সতর্ক থাকুন। বাইরে যাওয়ার সময় অতিরিক্ত প্লাগ পয়েন্ট বন্ধ রাখুন।
কাঠ-বাঁশের রিসোর্টে আগুন লাগলে করণীয়: কাঠ বা বাঁশের তৈরি রিসোর্টগুলো অনেক বেশি দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি হয়। এখানে আগুন খুব দ্রুত ছড়ায়। এ ধরনের রিসোর্টে আগুন লাগলে প্রথম কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাৎক্ষণিক নিজেকে ও অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে যেসব পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করতে হবে, তা হলো-
দ্রুত বেরিয়ে আসা: আগুন লাগার সংকেত পাওয়া মাত্র বা আগুন দেখামাত্র ঘরের ভেতরের সমস্ত মায়া ত্যাগ করে দ্রুত খোলা জায়গায় চলে আসুন।
চিৎকার করে সবাইকে জানানো: ‘আগুন’, ‘আগুন’ বলে চিৎকার করে রিসোর্টের অন্য অতিথি এবং স্টাফদের সতর্ক করুন।
ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার ব্যবহার করা: আগুন যদি একদম ছোট আকারে থাকে এবং আপনার হাতের কাছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকে, তাহলে পিএএসএস পদ্ধতিতে তা ব্যবহারের চেষ্টা করুন।
পানি ও বালু: কাঠ-বাঁশের আগুন নেভাতে পানি অত্যন্ত কার্যকর। তবে আগুন যদি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা রান্নাঘরের তেল থেকে লাগে, তাহলে সেখানে পানি দেবেন না।
একত্র হওয়ার স্থান: রিসোর্টের বাইরে আগে থেকে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে গিয়ে জড়ো হন এবং আপনার দলের সবাই অক্ষত আছে কি না তা নিশ্চিত করুন।
কাঠ ও বাঁশের রিসোর্টে আগুন লাগলে তা মুহূর্তের মধ্যে বিশাল রূপ নিতে পারে। তাই মালামাল বা পাসপোর্ট-টাকা বাঁচাতে গিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। জীবন সবার আগে। কোনো অবস্থাতেই আগুনের মধ্যে আবার রুমে ফিরে যাবেন না।
কেএমএএ/আপ্র/১৯.১০.২০২৬
