চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জন। এর মধ্যে অক্টোবরের ১৪ দিনে সাতজন মারা গেছেন। এছাড়া নতুন করে আরও ৯৮ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৫৪ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৭১ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে বর্তমানে ২৬০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৪৯৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৩০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন। আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০২ জন। অর্থাৎ, বর্ষা মৌসুমের শেষ ভাগ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট।
এর আগে জুলাইয়ে ৫৩৬ জন, জুনে ১২২ জন, মে মাসে ৩৭ জন এবং এপ্রিলে ২৯ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। বছরের শুরুর দিকে সংক্রমণ তুলনামূলক কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ৭৩০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এরপর কর্ণফুলীতে ৩০১ জন, বাঁশখালীতে ১৮৯ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ১৭১ জন এবং সাতকানিয়ায় ১৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আনোয়ারায় ১৩০ জন এবং রাউজানে ১১৫ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়া পটিয়ায় ১২২ জন, হাটহাজারীতে ৯১ জন, মিরসরাইয়ে ৯৭ জন, বোয়ালখালীতে ৮৪ জন, চন্দনাইশে ৯২ জন, লোহাগাড়ায় ৭২ জন, ফটিকছড়িতে ৫৭ জন এবং সন্দ্বীপে ৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে উপজেলা-ভিত্তিক তালিকার মোট সংখ্যা এবং জেলার সামগ্রিক হিসাবের মধ্যে কিছু অসংগতি রয়েছে।
বছরভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামে ২০২২ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন ৫ হাজার ৪৪৫ জন, ২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৮৭ জন, ২০২৪ সালে ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং ২০২৫ সালে ৪ হাজার ৮৬৪ জন। চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৭৫৪ জনে পৌঁছেছে।
মৃত্যুর হিসেবে ২০২২ সালে ৪১ জন, ২০২৩ সালে ১০৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৫ জন এবং ২০২৫ সালে ২৭ জন ডেঙ্গুতে মারা যান। চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ২৮।
দৈনিক হাসপাতালভিত্তিক প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ৮ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৭ জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১৬ জন রোগী ভর্তির তথ্য রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন ২৭ জন।
আইএমই/ডিজে
