পুজোর সঙ্গে প্রেমে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। পুজোয় প্রেমিক বা প্রেমিকার হাত ধরে প্যান্ডেল হপিং মাস্ট। প্রেমিকের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে তাই খড়দহ থেকে অশোকনগর পৌঁছে গিয়েছিলেন তরুণী। তবে আন্দাজও করতে পারেননি কয়েকঘণ্টা পর বদলে যাবে গোটা জীবন। বাড়িতে জানাজানি হতেই মারধরের ভয়ে অশোকনগরের মণ্ডপেই বিয়ে সারলেন যুগল। সাক্ষী পাড়া-প্রতিবেশী ও দর্শনার্থীরা।
ব্যাপারটা ঠিক কী? খড়দহের বাসিন্দা সৌমি দফাদার। সোশাল মিডিয়ায় অশোকনগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তনু অধিকারীর সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। টুকটাক কথা থেকে বন্ধুত্ব। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টা জানতে পারেন। সৌমির পরিবারের এই সম্পর্কে প্রবল আপত্তি ছিল। কিন্তু প্রেম তো কোনও বাধা মানে না। ফলে সম্পর্ক বজায় ছিল সৌমি ও তনুর। পুজোয় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করার সাধ হয়েছিল তরুণীর। তাই খড়দহ থেকে সোজা চলে আসেন অশোকনগর। ঘটনাচক্রে সৌমির বাড়ির লোকেরা বিষয়টা জেনে ফেলেন। ফোনে বকাবকিও করেন বলে খবর। তরুণীর আশঙ্কা ছিল, বাড়ি ফিরলে মারধর করা হবে। পাশাপাশি কেড়ে নেওয়া হবে মোবাইলও। আতঙ্কে বাড়ি না ফেরার সিদ্ধান্ত নেন সৌমি।
পরিস্থিতি জটিল বুঝে যুবকের এলাকার ক্লাব অর্থাৎ নেতাজী সংঘের সদস্যরা মায়ের সামনে যুগলের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সঙ্গে সঙ্গে হাজির করা হয় মালা, টোপর, শাড়ি, শাখা। মা দুর্গার সামনেই এক হয় তাঁদের চার হাত। ঠাকুর দেখতে এসে মণ্ডপে এ দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যায় দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ মোবাইলে ছবিও তোলেন। জানা গিয়েছে, আজ অর্থাৎ দশমীতে ঘরোয়াভাবে তাঁদের বউভাতের আয়োজন করা হয়েছে। তবে সৌমির পরিবার কী বলছে তা এখনও জানা যায়নি।
