Published on
:
1 min read
এই সময়, টিটাগড়: সাতসকালে মিলপাড়ায় চেনা ব্যস্ততার বদলে শুধুই উদ্বেগ আর ফ্যাকাশে মুখ। টিটাগড় পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাতাল ও এম্পায়ার জুট মিল চত্বরে হু-হু করে ছড়াচ্ছে জন্ডিসের সংক্রমণ। এখনও পর্যন্ত ২০ জন বাসিন্দা এই রোগে শয্যাশায়ী। তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশই স্কুলপড়ুয়া ও তরুণ প্রজন্ম। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে গোটা তল্লাট ঘুরে দেখলেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরেই এলাকায় গা-হাত-পা ব্যথা, বমি আর চোখ হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে ঘরে ঘরে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন। প্রাথমিক তদন্তে চিকিৎসকদের অনুমান, ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালার কোনও ফুটো দিয়ে পানীয় জলের পাইপে নোংরা জল মিশে যাওয়ার ফলেই এই বিপত্তি। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ওই চাতাল এলাকায় তড়িঘড়ি বসানো হয়েছে মেডিক্যাল ক্যাম্প। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ওআরএস ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। ইতিমধ্যেই আক্রান্তদের রক্তের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে পানীয় জলের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
কৌস্তভ বলেন, ‘আক্রান্তদের বড় অংশই ৬ থেকে ২১ বছর বয়সি। জলবাহিত জীবাণু থেকেই এই বিপদ কি না, তা ল্যাবরেটরির রিপোর্ট এলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ তবে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আপাতত পুরসভার সরবরাহ করা নলের জল পান করতে সম্পূর্ণ বারণ করেছে প্রশাসন। এলাকায় পুরসভার ভ্রাম্যমাণ ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে পরিস্রুত জল সরবরাহ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের জল অন্তত দশ মিনিট ফুটিয়ে খাওয়ার জন্য আর্জি জানানো হচ্ছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত গোটা এলাকাকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।