শরতের কাশফুল আর আকাশে মেঘের ভেলা জানিয়ে দেয় দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। আর দুর্গাপূজা মানেই মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের আওয়াজ, শাঁখের ধ্বনি আর সপ্তমীর অঞ্জলি শেষে সেই অতি পরিচিত ও কাঙ্ক্ষিত ভোগের স্বাদ। উৎসবের এই দিনগুলোতে তারকাদের পূজা দেখতে আমাদের সবারই কৌতুহল থাকে।
আর তারকাদের পূজার মধ্যে জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজলের মুখার্জি বাড়ির উত্তর মুম্বাই সার্বজনীন দুর্গোৎসব অন্যতম। আর অভিনেত্রী কাজলের এই পারিবারিক পূজায় পরিবেশন করা হয় বাঙালি স্টাইলের খিচুড়ি, লাবড়া (মিক্সড ভেজিটেবল তরকারি), বেগুনি ও চাটনি।
প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পরে প্যান্ডেলে তাঁর উপস্থিতি সবার নজর কাড়ে। পরিবারিক পূজায় পরিবারের সদস্য হিসেবে অঞ্জলি দেন এবং মণ্ডপে আসা দর্শনার্থী ও ভক্তদের মাঝে কাজল হাসিমুখে গরম গরম ভোগ পরিবেশন করেন।
পূজার সেই প্যান্ডেল স্টাইলের সুগন্ধি গোবিন্দভোগের খিচুড়ির থালিতে যদি সাথে না থাকে মাখামাখা লাবড়া আর মচমচে গরম বেগুন ভাজা, তবে উৎসবের ভূরিভোজ যেন একদমই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কোনো রকম পেঁয়াজ-রসুনের ব্যবহার ছাড়াই খুব সহজে কীভাবে ঘরে বসে একদম মুখার্জি বাড়ির এই ট্র্যাডিশনাল পদ তৈরি করবেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই চমৎকার রেসিপি।
১. ভোগের খিচুড়ি
এটি গোবিন্দভোগ চাল এবং ভাজা সোনা মুগ ডাল দিয়ে তৈরি একটি নিরামিষ সুগন্ধি খিচুড়ি, যাতে পেঁয়াজ-রসুন ব্যবহার করা হয় না।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
গোবিন্দভোগ চাল: ১ কাপ
সোনা মুগ ডাল: ১ কাপ
সবজি: আলু ও ফুলকপি (বড় টুকরো করা), মটরশুঁটি
মসলা ও ফোড়ন: আদা বাটা (১ চামচ), জিরা গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, গোটা গরম মসলা (এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ) ও কাঁচা লঙ্কা
অন্যান্য: সরিষার তেল/ঘি, চিনি (স্বাদমতো) এবং লবণ
প্রস্তুত প্রণালী:
১. প্রথমে শুকনো কড়াইতে মুগ ডাল হালকা সোনালী করে ভেজে নিন। এরপর ডালটি ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। চালও ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন।
১. কড়াইতে তেল বা ঘি গরম করে আলু এবং ফুলকপির টুকরোগুলো সামান্য হলুদ ও লবণ দিয়ে হালকা ভেজে তুলে রাখুন।
২. ওই তেলেই তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা এবং গোটা গরম মসলা ফোড়ন দিন। সুন্দর গন্ধ বের হলে আদা বাটা দিয়ে সামান্য কষিয়ে নিন।
৩. এবার জল ঝরানো চাল ও ডাল কড়াইতে দিয়ে দিন। সাথে হলুদ গুঁড়ো, জিরা গুঁড়ো ও ধনে গুঁড়ো দিয়ে মিনিট দুয়েক হালকা নাড়াচাড়া করুন।
৪. এবার পরিমাণমতো গরম জল ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে ঢাকা দিন। চাল-ডাল আধা-সেদ্ধ হয়ে এলে ভেজে রাখা আলু, ফুলকপি ও মটরশুঁটি যোগ করুন।
৫. ফিনিশিং টাচ: চাল-ডাল ও সবজি পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে মাখামাখা হলে ওপর থেকে সামান্য চিনি, কাঁচা লঙ্কা এবং এক চামচ ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
২. লাবড়া (পাঁচমিশালি ভোগের তরকারি)
বিভিন্ন রকমের মৌসুমি সবজি দিয়ে তৈরি এই মাখামাখা তরকারিটি ভোগের খিচুড়ির সাথে দারুণ জমে যায়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
সবজি: আলু, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, ফুলকপি, পেঁপে, পটল ও মূলা (বড় ডুমো ডুমো করে কাটা)।
ফোড়নের জন্য: পাঁচফোড়ন (১ চা-চামচ), তেজপাতা, দুটি শুকনা মরিচ।
মসলা: আদা বাটা (১ টেবিল চামচ), হলুদ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, ধনে গুঁড়া, কাঁচা মরিচ।
অন্যান্য: সরিষার তেল, স্বাদমতো লবণ, সামান্য চিনি এবং নামানোর জন্য ১ চামচ ঘি।
প্রস্তুত প্রণালী:
১.প্রথমে কড়াইতে সরিষার তেল গরম করে পাঁচফোড়ন, তেজপাতা ও শুকনা মরিচ ফোঁড়ন দিন। সুন্দর গন্ধ বের হলে একে একে আলু, পেঁপে ও মূলার টুকরোগুলো দিয়ে হালকা ভেজে নিন।
২. এবার আদা বাটা, হলুদ, জিরা ও ধনে গুঁড়া সামান্য জলে গুলে কড়াইতে দিয়ে দিন। মসলা একটু কষে এলে ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়া, পটল ও বেগুন যোগ করে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করুন।
৩. স্বাদমতো লবণ ও কয়েকটি কাঁচা মরিচ দিয়ে ঢাকা দিন। সবজি থেকে যে জল বের হবে, তাতেই অল্প আঁচে সব সেদ্ধ হতে দিন। বাড়তি জল দেওয়ার খুব একটা প্রয়োজন নেই।
৪. সবজি মাখামাখা ও সেদ্ধ হয়ে এলে উপর থেকে একটু চিনি ও ঘি ছড়িয়ে হালকা হাতে নেড়ে নামিয়ে নিন।
৩.মচমচে চাটপাটা বেগুন ভাজা
কাজলের সুস্বাদু বাঙালি খাবার তাঁর ভীষণ প্রিয়, আর তার মধ্যে একটি হলো কাজলের প্রিয় মচমচে চাটপাটা বেগুন ভাজা। খিচুড়ির পাতে গরম গরম বেগুন ভাজার জুড়ি নেই। খুব কম সময়ে ঝটপট এটি বানিয়ে নেওয়া যায়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
বেগুন: ১টি বড় গোল বেগুন (মোটা চাকা করে কাটা)।
মসলা: হলুদ গুঁড়া (হাফ চামচ), মরিচ গুঁড়া (হাফ চামচ), ধনে-জিরা গুঁড়া (হাফ চামচ), আমচুর পাউডার/চাট মসলা (১/৪ চামচ)।
অন্যান্য: স্বাদমতো লবণ এবং ভাজার জন্য সরিষার তেল।
প্রস্তুত প্রণালী:
১. কেটে রাখা গোল বেগুনের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন।
২. একটি ছোট পাত্রে হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, ধনে-জিরা গুঁড়া, আমচুর পাউডার/চাট মসলা ও লবণ একসাথে মিশিয়ে মসলার মিশ্রণ তৈরি করুন।
৩. এই মসলার মিশ্রণটি বেগুনের দুই পাশে খুব ভালোভাবে মাখিয়ে ৫-১০ মিনিট রেখে দিন, যাতে মসলা ভেতরে ঢুকে যায়।
৪. তাওয়ায় সরিষার তেল গরম করে মাঝারি আঁচে মসলা মাখানো বেগুনের টুকরোগুলো ছেড়ে দিন।
৫. দুই পাশ উল্টেপাল্টে লালচে ও মচমচে করে ভেজে ভেতরটা নরম হয়ে এলে তুলে গরম গরম পরিবেশন করুন।
আজ সপ্তমীর দিনে কিংবা ছুটির দুপুরে ধোঁয়া ওঠা গরম ভোগের খিচুড়ির সাথে এই লাবড়া আর মচমচে বেগুন ভাজা পরিবেশন করুন।
