আদালত বলছে, প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। কিন্তু পুলিশ জানিয়ে দিল, প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই বেআইনি কার্যকলাপ হলে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে। দলীয় নেতাদের জেলযাত্রার প্রতিবাদে শুক্রবার দিল্লি-সহ গোটা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। তার আগের দিন পুলিশ এবং আদালতের তরফে খানিকটা আলাদা কথাই শোনা গেল।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ হলে গোটা দিল্লি অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে, পথের ধারে দোকানিদের ব্যবসা লাটে উঠবে। উৎসবের মরশুমে এমনটা হলে প্রবল সমস্যা হবে। এই মর্মে দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন অনিল কুমার গুপ্তা নামে এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি ছিল, ককরোচদের প্রতিবাদ কর্মসূচি বাতিল করুক আদালত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দিল্লি হাই কোর্ট জানিয়েছে, প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে সকলের তাই কর্মসূচি বাতিল হবে না। ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে।
ভিড় সামলানো নিয়ে শীর্ষ আদালতকে আশ্বাস দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কনট প্লেসে জমায়েত বা প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেখানে জমায়েত হলে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। দিল্লির একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যেই বিএনএস ১৬৩ ধারা জারি হয়েছে। অর্থাৎ চার বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। সেই ধারা অমান্য করলে দীপকেরও কি জেলযাত্রা হতে পারে? জল্পনা ছড়াচ্ছে জনমানসে।
মঙ্গলবার পুলিশি নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েন ককরোচ পার্টির দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। এই দু’জনকে ৫ দিনের জেল হেফাজত দিয়েছে আদালত। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, ককরোচ নেতারা কোনও অন্যায় করেননি। তাঁরা জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে দীপকে লিখেছেন, ‘দোষ শুধু তেরঙ্গা ওড়ানো। হিম্মত থাকলে মোদিজি, এমার্জেন্সি ঘোষণা করুন।’ পাঁচদিন জেলে থাকতে হবে সৌরভ-আশুতোষদের। তার মধ্যেই ককরোচদের পথে নামার ডাক দিয়েছেন দীপকে। এই প্রতিবাদ যেন স্রেফ দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন দীপকে। জানিয়েছেন, যাঁরা দিল্লিতে প্রতিবাদ করতে যেতে পারবেন না তাঁরা যেন নিজেদের শহরেও একইভাবে প্রতিবাদ করেন।
