নাইজেরিয়ার নারী উদ্যোক্তা ইফিওমা মেরি ওকোনকোর প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন ১৫ টন কাসাভা প্রক্রিয়াজাত করে। প্রতিষ্ঠানটি কয়েকশ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং প্রায় দুই হাজার কৃষকের কাছ থেকে ৪৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের কাসাভা কিনেছে।
আফ্রিকার খাদ্য ও কৃষি খাত ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১ লাখ কোটি ডলারের বাজারে পরিণত হতে পারে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থায় নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সাব-সাহারান আফ্রিকায় কর্মজীবী নারীদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি কৃষি ও খাদ্য খাতে যুক্ত। তবে প্রক্রিয়াজাত, সংরক্ষণ ও বাণিজ্যের মতো মূল্য সংযোজনকারী কাজে নিয়োজিত অনেক নারী এখনো কম মজুরি ও অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতায় আটকে আছেন।
নাইজেরিয়ার নারী উদ্যোক্তা ইফিওমা মেরি ওকোনকোর প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন ১৫ টন কাসাভা প্রক্রিয়াজাত করে। প্রতিষ্ঠানটি কয়েকশ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং প্রায় দুই হাজার কৃষকের কাছ থেকে ৪৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের কাসাভা কিনেছে। নারীকেন্দ্রিক ঋণসহায়তা ও সরকারি উদ্যোগ এ সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে। তবে নারী উদ্যোক্তাদের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিকাশে জমির মালিকানা, ঋণপ্রাপ্তি, সামাজিক বৈষম্য ও অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজ বড় বাধা। ইথিওপিয়া ও বুরুন্ডির অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, প্রশিক্ষণ, সরাসরি বাজারসংযোগ, সামষ্টিক সঞ্চয় ও ঋণসহায়তা নারীর উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষিপ্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং লিঙ্গসমতাভিত্তিক অর্থায়নও গুরুত্বপূর্ণ।
জলবায়ু পরিবর্তনে নারী কৃষক তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই নারীর অধিকার, দক্ষতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু অভিযোজন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেট এ লেখা এক নিবন্ধে]
আনা মারিয়া লোবোগুয়েরেরো: গেটস ফাউন্ডেশনে এডাপটিভ অ্যান্ড ইকুইটেবল ফুড সিস্টেমস্ বিভাগের পরিচালক
