শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দিয়ে মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এরমধ্যে আয়াসকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন সাকিবুল হাসান (১৯), যাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে এবং সুজন মিয়াকে (১৮) দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, আমাদের দেশে মানুষ রাস্তাঘাটে হাঁটতে পারে না এজন্য ফুটপাত উচ্ছেদ করে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রাফিতি দেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে।
আইনজীবী বলেন, আমরা এ দেশে হিন্দু মুসলিম বসবাস করি, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মুখে কালি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে মূলত পূজার আগে উসকানি দেওয়া হলো।
তিনি বলেন, ভাইরাল হওয়ার জন্য রাস্তাঘাটে গালাগালি করতে হবে? সরকার এবং জনগণের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন সময় উসকানিমূলক কথা বলছে। সরকারের কর্মকাণ্ডে তারা চ্যালেঞ্জ করেছে এ ঘটনার মাধ্যমে। ইচ্ছাকৃতভাবে তারা এ ঘটনার সৃষ্টি করেছে। এর পেছনে কারা আছে সেটা জানা দরকার। কারণ এসব করতে টাকা-পয়সা খরচ হয়। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
আইনজীবী আরো বলেন, দেশে অনেকেই জুলাই যোদ্ধা দাবি করেন। জুলাই যোদ্ধা বর্তমানে দেশে সবাই। জুলাই যোদ্ধা বলে আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। যা ইচ্ছে তা করা যাবে না।
অপরদিকে আয়াসদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, সকল আসামি জুলাই যোদ্ধা। এ ছাড়া নারী আসামি রিমির তিন বছরের বাচ্চা আছে উল্লেখ করে রিমান্ড নামঞ্জুর করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন। ধারা অনুযায়ী, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়টিকে অন্তর্ভূক্ত করেছেন মামলার বাদী।
পূর্বকোণ/প্রান্ত/পারভেজ
শেয়ার করুন
