উপমহাদেশের নারী শিক্ষার পথিকৃৎ, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখিকা বেগম ফজিলাতুন্নেসা জোহার প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৭৭ সালের ২১ অক্টোবর পরলোকগমণ করেন তিনি।
১৮৯৯ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নামদার কুমুল্লী গ্রামে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ফজিলাতুন্নেসা। তাঁর বাবা ওয়াজেদ আলী খাঁ ছিলেন মাইনর স্কুলের শিক্ষক এবং মা হালিমা খাতুন। শৈশবে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষায় তাঁর মেধার স্বাক্ষর দেখে সামাজিক নানা প্রতিকূলতা ও আর্থিক অনটন সত্ত্বেও বাবা-মা তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।
ফজিলাতুন্নেসা ১৯২১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯২৩ সালে ইডেন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। এরপর ১৯২৫ সালে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে স্নাতক (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন, যার মাধ্যমে নিখিল বঙ্গে প্রথম মুসলিম নারী গ্র্যাজুয়েট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমএ পাস করেন এবং স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। পরবর্তীতে ১৯২৮ সালে গণিতে উচ্চতর শিক্ষার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যান তিনি। করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর (চাঁদ মিয়া) আর্থিক অনুদান ও উৎসাহে বিলেত যাত্রা করেন তিনি এবং পুরো উপমহাদেশে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে বিলেতের ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে ১৯৩০ সালে কলকাতায় স্কুল পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব নেন ফজিলাতুন্নেসা। একই বছরের আগস্টে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় মুসলিম সমাজসেবক সংঘের বার্ষিক অধিবেশনে তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৩৫ সালে কলকাতার বেথুন কলেজে গণিতের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।
দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ১৯৪৮ সালে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময় তিনি এই দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টাতেই ইডেন কলেজে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ চালুসহ প্রতিষ্ঠানটি ডিগ্রি কলেজে উন্নীত হয়।
শিক্ষাকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাতেও অবদান রেখেছেন তিনি। নারী শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতি বিষয়ে তাঁর বেশ কিছু গল্প ও প্রবন্ধ তৎকালীন বিখ্যাত ‘শিখা’ ও ‘সওগাত’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯২৮ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ফজিলাতুন্নেসার সাক্ষাৎ হয়। কবি নজরুল তাঁর বিলেত গমন উপলক্ষে ‘বর্ষা-বিদায়’ নামের একটি বিশেষ কবিতা রচনা করেছিলেন।
