নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মো. শহিদুল ইসলাম (৫০) ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ফারহানা তাসফিয়া নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শহিদুলের স্ত্রী রুবিনা আক্তার ও ১২ বছর বয়সী ছেলে ফারহান তাজওয়ার লাবিব গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখায় কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালী শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজার ছুটিতে স্ত্রীর বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশে সোমবার বিকেলে মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী থেকে আরপি পরিবহনের একটি বাসে রওনা হন রুবিনা আক্তার। সঙ্গে ছিল তাদের ছেলে লাবিব ও মেয়ে তাসফিয়া। শহিদুল ইসলাম মাগুরা স্টেশন থেকে ওই বাসে ওঠেন। পরে বড়াইগ্রামে বাসটির সঙ্গে বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। নিহত শহিদুলের বড় ভাই মো. ফারুক হোসেন জানান, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মুঠোফোনে দুর্ঘটনার খবর পান তারা। পরে পরিবারের সদস্যরা নিহত শহিদুল ও তাসফিয়াকে শনাক্ত করেন।
শহিদুলের ভাতিজি ঐশী জানান, ভোরে তার বাবার মুঠোফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে এক নারী দুর্ঘটনার খবর দেন। পরে ভিডিওকলের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে থাকা মরদেহ দেখে তার চাচা ও চাচাতো বোনকে শনাক্ত করা হয়। আহত রুবিনা ও লাবিবকে প্রথমে নাটোর থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
নিহতদের দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে পারিবারিক কবরস্থানে দুটি কবর খনন করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মির্জাগঞ্জের ইয়ার উদ্দিন খলিফা (রহ.) দরবার শরিফ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।
