কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের উদ্যোগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহাবস্থান, সামাজিক ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া শহর শাখা।
আজ বুধবার কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের স্থানীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা ধর্মীয় সহাবস্থান, সামাজিক ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা প্রয়োজন। একটি শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক সম্প্রীতি অটুট রাখতে পারস্পরিক যোগাযোগ, মতবিনিময় এবং একে অপরের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর ওপরও তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের জায়গায় সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন। সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি এনামুল হক, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার, জেলা জামায়াতের ইউনিট সদস্য মাজহারুল হক মমিন, অধ্যাপক রাজি উদ্দিন শাহিন, কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির আনিসুর রহমান পারভেজ, নায়েবে আমির আজমল হোসেন ও শহর সেক্রেটারি শামীম আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়দেব বিশ্বাস, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ সেন, জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নিলয় সরকার, কুষ্টিয়া পৌর কমিটির আহ্বায়ক বিশ্বনাথ দাস এবং কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা রতন কুমার মৈত্রসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
