নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডীতে একই পরিবারে ২ জনকে সারের ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নুরুল আবছার।
সম্প্রতি মো. শফিকুল ইসলামের শফিক এন্টারপ্রাইজ নামে আরেক ভাই ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের আমল থেকে ডিলারশীপের সুবিধা ভোগ করছেন নুরুল আবছার। বিএনপি সরকারের আমলেও তিনি বাধাহীনভাবে ডিলারশিপ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে তার আরেক ভাইকে ডিলারশিপ দেওয়া নিয়ে বিএনপি তৃণমূলের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও স্থানীয় ছাত্রনেতা রিয়াদ মনি জানান, জাতীয়তাবাদী পরিবারের অনেক ব্যবসায়ী থাকার পরও তাদেরকে বঞ্চিত করে দুই ভাইকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এটি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের শামিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নুরুল আবছারের ছোট ভাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের একনিষ্ঠ কর্মী সাইফুল ইসলাম স্বৈরাচার আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভাইয়ের নামে ডিলারশিপ বাগিয়ে নেন। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে তার আরেক ভাই মো. শফিকুল ইসলাম বিএনপির কতিপয় নেতার হাত ধরে পেয়ে গেছেন ডিলারশিপ।
তবে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
সুত্র বলছে, ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট প্রণীত সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালার ৩(১১) ধারায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করেছেন।
আদালতের স্পষ্ট আদেশ থাকার পরও দুই ভাইকে ডিলার নিয়োগ করা আদালত অবমাননার শামিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সারের ডিলারশিপ নিয়ে বিএনপি’র কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয়। তারা জানিয়েছে, বর্তমান বিএনপি সরকার সহজেই কৃষকদের হাতে সার পৌঁছাতে তৃণমূল পর্যায়ে ডিলারশিপ নিয়োগ করছে। কিন্তু সরকারের মহতী এই উদ্যোগকে বিতর্কিত করতে আওয়ামী ঘরানার ব্যবসায়ীরা নানামুখী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। ভর্তুকি মূল্যে সরকার থেকে সার কিনে অধিক টাকার লোভে পাচার করে দিচ্ছে। যে কারণে বিভিন্ন এলাকায় সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে কৃষক সমাজ। বদনাম হচ্ছে সরকারের। আওয়ামী ঘরানার ডিলারদের বাদ দিয়ে বিএনপিপন্থী ত্যাগী ব্যবসায়ীদের নিয়োগ দিলে কৃষকরা সঠিকভাবে সার পাবে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এক পরিবারে দুইজনের ডিলারশিপ বাতিল করে স্বৈরাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন লোকদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ প্রদানের দাবি এলাকাবাসীর।
