বিদেশে কেনাকাটা, ভ্রমণ ও বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধে ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। গত আগস্ট মাসে দেশের ব্যাংকগুলো থেকে ইস্যু করা কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে মোট ৯৮৭ কোটি টাকা খরচ করেছেন গ্রাহকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে ঋণসুবিধাভিত্তিক কার্ডে, যার পরিমাণ ৫০৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত কার্ডভিত্তিক লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বিদেশে অর্থ পরিশোধে ঋণসুবিধাভিত্তিক কার্ডের পাশাপাশি সরাসরি ব্যাংক হিসাবের অর্থ ব্যবহারের কার্ড এবং আগাম অর্থ জমা রাখা কার্ডও ব্যবহার করেছেন গ্রাহকরা। সরাসরি ব্যাংক হিসাবের অর্থ ব্যবহারের কার্ডে ব্যয় হয়েছে ৪২২ কোটি টাকা। আর আগাম অর্থ জমা রাখা কার্ডে খরচ হয়েছে ৬০ কোটি টাকা।
বিদেশে ঋণসুবিধাভিত্তিক কার্ডে ব্যয়ের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগস্টে বিদেশে এ ধরনের কার্ডে মোট ব্যয়ের ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে দেশটিতে। তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সিঙ্গাপুর। এসব দেশে ব্যয়ের হার যথাক্রমে ১০ দশমিক ৮৬, ৯ দশমিক ৭৫, ৯ দশমিক ১২ ও ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
বিদেশে কার্ডের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও এ মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে দেশে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের মোট অর্থমূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এ লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। চলতি বছরের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১০৩ শতাংশ।
একই সময়ে দেশে ব্যাংক কার্ডের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কার্ডের সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৭০ লাখের কিছু বেশি। চলতি বছরের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ২৪১টিতে। পাঁচ বছরে কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ৯৬ শতাংশ।
আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট কার্ডের মধ্যে সরাসরি ব্যাংক হিসাবের অর্থ ব্যবহারের কার্ড রয়েছে চার কোটি আট লাখ ৮৭ হাজার ৮০৪টি। ঋণসুবিধাভিত্তিক কার্ডের সংখ্যা ২৮ লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৯। আর আগাম অর্থ জমা রাখা কার্ড রয়েছে ৯২ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৮টি।
তবে সামগ্রিকভাবে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়লেও গত আগস্টে দেশের অভ্যন্তরে ঋণসুবিধাভিত্তিক কার্ডে ব্যয় কিছুটা কমেছে। ওই মাসে এ ধরনের কার্ডে মোট ব্যয় হয়েছে চার হাজার ৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর আগের মাস জুলাইয়ে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল চার হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক মাসে ব্যয় কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
আগস্টে দেশের অভ্যন্তরে এ ধরনের কার্ডে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ হয়েছে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির বড় বিপণিবিতানে। এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৫১৮ কোটি, বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধে ৪৪২ কোটি এবং ওষুধ কেনায় ২৮৪ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন গ্রাহকরা।
অন্যদিকে, বিদেশি ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে গত আগস্টে ২৪৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন বিদেশি নাগরিকেরা। আগের মাসের তুলনায় এ ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
সামগ্রিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দেশের ভেতরে ও বিদেশে কেনাকাটা এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। তবে আগস্টে দেশের অভ্যন্তরে ঋণসুবিধাভিত্তিক কার্ডে ব্যয় কমলেও বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডনির্ভর ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
