৩৪ বছরের কর্মজীবনের ইতি, ঘোড়ার গাড়িতে শিক্ষকের রাজকীয় বিদায়
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->একটি বিদ্যালয়, অসংখ্য শিক্ষার্থী আর ৩৪ বছরের স্মৃতি। যে শ্রেণিকক্ষে কেটেছে জীবনের দীর্ঘ সময়, যে আঙিনায় গড়ে তুলেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম, সেই চেনা প্রাঙ্গণ ছেড়ে বিদায় নিলেন শিক্ষক অলক কুমার চক্রবর্তী। তবে এ বিদায় ছিল ব্যতিক্রমী। ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করে তাকে তুলে দেওয়া হয় ঘোড়ার গাড়িতে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই বাহনে তার বিদায় আয়োজন হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক মুহূর্ত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দেবগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে তার বিদায় উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ ৩৪ বছরের শিক্ষকতা শেষে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা। তাদের চোখেমুখে ছিল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগ।
বিদায়ী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও আখাউড়ার একাডেমিক সুপারভাইজার কফিল উদ্দিন মাহমুদ।
আরও পড়ুন
অলক কুমার চক্রবর্তীর বিদায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারিবারিক ঐতিহ্যও। তার বাবা অরুণ চক্রবর্তীও ছিলেন একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বাবার পর ছেলের দীর্ঘ শিক্ষকতা-একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের এই সম্পর্ক শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে অলক কুমার চক্রবর্তী শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে তার শিক্ষার্থীরা বড় হয়েছেন, ছড়িয়ে পড়েছেন নানা পেশায়। তবে প্রিয় শিক্ষকের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও স্মৃতি রয়ে গেছে গভীরে। অবসরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই বন্ধন যে সহজে ফুরানোর নয়, বিদায়ের আয়োজন যেন তারই প্রকাশ।
আরও পড়ুন
একসময় গ্রামবাংলার বিয়ে, বরযাত্রা ও বিভিন্ন আনন্দঘন আয়োজনে ঘোড়ার গাড়ি ছিল আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের প্রতীক। আধুনিক যানবাহনের ভিড়ে সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই বিরল। ঐতিহ্যবাহী এই বাহনে একজন শিক্ষককে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে আয়োজকরা আবেগের সঙ্গে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যেরও মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন।
বিদায়ের মুহূর্তে আবেগাপ্লুত অলক কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি খুবই আনন্দিত। সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা রইল।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘চাকরিজীবীরা অবসরে গেলে সাবেক হয়ে যান। শিক্ষক কিন্তু শিক্ষকই থাকেন। বিদায়বেলায় শিক্ষকের এমন রাজকীয় বিদায় সত্যিই আনন্দের। একজন শিক্ষক পরিবারের সদস্য হিসেবে আমি গর্ববোধ করছি।’
৩৪ বছরের কর্মজীবন শেষে অলক কুমার চক্রবর্তী নতুন জীবনের অধ্যায়ে পা রাখলেন। তবে দেবগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের আঙিনায় রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা এবং শিক্ষকতার গৌরবময় উত্তরাধিকার। ঘোড়ার গাড়িতে তার এই বিদায় কেবল কর্মজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং একজন শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ।
জুটন বনিক/সালমান/
আরও পড়ুন
চাঁদপুরে বিপুল পরিমান নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চাঁদপুরের বাবুরহাট বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ দশমিক ৭ টন নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন। এ সময় অবৈধভাবে পলিথিন বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্লাহ এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে বশির পাটোয়ারী, মাহবুব ও ফখরুদ্দিনের গোডাউন থেকে মোট ১ হাজার ৬৯৬ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়। এর মধ্যে বশির পাটোয়ারীর গোডাউন থেকে ১ হাজার ৫৮৩ কেজি, মাহবুবের গোডাউন থেকে ৭০ কেজি এবং ফখরুদ্দিনের গোডাউন থেকে ৪৩ কেজি পলিথিন উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন
অভিযানে বশির পাটোয়ারীকে ৫০ হাজার টাকা এবং মাহবুব ও ফখরুদ্দিনকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। তিন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পুলিশের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।
আরও পড়ুন
পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার ও বিক্রি বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফয়েজ/এএফ
আরও পড়ুন
৯৬ ঘণ্টা পর সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার ৯৬ ঘন্টা পরে রাঙামাটি সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮ টার দিকে এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। এদিকে দূর্গাপূজা ঘিরে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেক সড়ক অবরোধ স্থগিত করেছে ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত পাহাড়ি দুই সংগঠন 'সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি' ও 'সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন'। এতে আপাতত পর্যটক ও স্হানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
এর আগে আধিপত্য বিস্তারের জেরে পাহাড়ি দুই সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে চলমান সংঘাত আর সড়ক অবরোধের মধ্যে সাজেক ভ্যালী পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। 'অনিবার্য কারণ' দেখিয়ে গেল রোববার, (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টা হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই ঘোষণা কার্যকর থাকবে বলে ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় দেয়া জরুরী গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। একইসাথে পর্যটকদের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকাল ৫ টার মধ্যে সাজেক ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।
আরও পড়ুন
এ ঘোষণার পরই সাজেকে পর্যটক শুণ্য হয়ে পড়ে। স্হানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে দূর্গাপূজার ছুটির মৌসুমে এমন পরিস্থিতির কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামীকাল শুক্রবার থেকে সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে। সাজেক মাচালং বাজারেও এ উৎসব উদযাপিত হবে। ধর্মীয় উৎসবের প্রতি যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান জানিয়ে দুই সংগঠনের পূর্বঘোষিত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এর আগে গেল ১১ অক্টোবর সকাল ৬ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ কর্মসুচি ঘোষণা করে পাহাড়ি দুই সংগঠন 'সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি' ও 'সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন'। ওইদিন ১১ ঘন্টা পরে প্রশাসনকে তিনটি শর্ত দিয়ে ৪৮ ঘন্টা সময় দিয়ে কর্মসুচি স্থগিত করে। কিন্তু ওই দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ফের আজ (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসুচি পালন শুরু করে। তবে সন্ধ্যায় কর্মসুচি ২১ তারিখ পর্যন্ত স্হগিত করে বিবৃতি দেয় সংগঠন দুটি।
কর্মসুচির কারণ তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়েছে - জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সাজেকে অবস্থান ও সাধারণ জনগণকে হত্যার হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীদেরকে সরিয়ে নেয়ার দাবিতে গত ৮ অক্টোবর আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল সাজেক কার্বারী এসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের সরিয়ে নিতে প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এরপরই আজ সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয় -'গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জেএসএস সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকের ভুয়োছড়ি, চাইল্যাতলী ও মাচলং ক্যাম্পের আশেপাশে অবস্থান নিয়ে এলাকার সাধারণ জনগণকে হুমকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাদের ছোঁড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা (৮) নামে একজন শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে'।
জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন
আরও পড়ুন
জয়পুরহাটে মোটরসাইকেল-অটোরিকশা সংঘর্ষে যুবক নিহত
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->জয়পুরহাট শহরের নতুনহাট কড়াই ফ্যাক্টরি এলাকায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে বিকাশ চন্দ্র কর্মকার (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বিকাশ চন্দ্র কর্মকার বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তেলিহাটা কর্মকারপাড়ার বাবলু কর্মকারের ছেলে। তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার দাদরা গ্রামে বোনের বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
আরও পড়ুন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে বোন জামাইয়ের জন্য মোটরসাইকেলে করে খাবার নিয়ে শহরের একটি দোকানে যাচ্ছিলেন বিকাশ। পথে নতুনহাট কড়াই ফ্যাক্টরি এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেল তার গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে ওই সড়কে কিছু সময়ের জন্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন
খবর পেয়ে জয়পুরহাট সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাগর/এএফ
আরও পড়ুন
প্রেমিকের বাইক চালাচ্ছিলেন প্রেমিকা, সড়কে ঝরল দুজনেরই প্রাণ
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
চৌগাছা থানা। ছবি: খবরের কাগজ
-->যশোরের চৌগাছায় মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অয়ন হোসেন (২২) ও মিথিলা খাতুন (১৭) নামে তরুণ-তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা ছিলেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চৌগাছা-যশোর সড়কের কয়ারপাড়া-টালিখোলা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত অয়ন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আজমপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে এবং মিথিলা চৌগাছা পৌরশহরের বাকপাড়ার নাজমুল ইসলামের মেয়ে।
আরও পড়ুন
পুলিশ ও স্বজনরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে অয়ন ও মিথিলা নম্বরবিহীন সাদা-কালো রঙের একটি ১৫০ সিসি সুজুকি মোটরসাইকেলে চড়ে চৌগাছা থেকে যশোর সড়কের আড়ারদাহ ক্যাফেতে খেতে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন মিথিলা। পথে কয়ারপাড়া-টালিখোলা মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অয়নকে মৃত ঘোষণা করেন। মিথিলার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহত দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন মিথিলা। তাদের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পিকআপের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
এইচ আর তুহিন/সালমান/
