ফিফা আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯ গোল হজমের পর দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়রের নাইট ক্লাবের ছবি প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে ফুটবলাঙ্গনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। জাতীয় দল কমিটির সভায় বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল নিজেই নেন তদন্তের ভার।
২৫ অক্টোবর থেকে সাফের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে। শৃঙ্খলা নিয়ে অভিযোগ ওঠা সাদ ও সোহেলের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন ফুটবলাঙ্গনে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে জাপান থেকে বলেন, ‘তদন্ত শেষ। আমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে সাফের প্রথম ম্যাচ শুরুর আগে একটা রুলিং দেব।’
সোহেল ও সাদ দুই জনই স্বীকার করেছেন তারা নাইট ক্লাবে গেছেন। তবে তাদের দাবি, ইন্দোনেশিয়া নয়, নেপালের ক্লাবে গিয়েছিলেন। আর সেটা জাতীয় দল নয়, বরং ক্লাবের সঙ্গে চুক্তির পর অফ সিজনে গিয়েছিলেন। তদন্তে ক্লাবের স্থান কোথায় ছিল- এই বিষয় তিনি জানলেও অবশ্য কিছু বলেননি।
খেলোয়াড়েরা দেশের দূত। বিশেষ করে ফুটবলার ও ক্রিকেটারদের অনেক তরুণ অনুকরণ করে। জাতীয় ফুটবলারদের নাইট ক্লাবে নারীবেষ্টিত হয়ে মদের সামনে ছবি বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় দলের ক্যাম্প চলাবস্থায় ঘটলে বড় অপরাধ, এমনকি অফ সিজনে হলেও সেটা শাস্তিযোগ্য।
স্পর্শকাতর বিষয়ে মাত্র একজনের কমিটি হওয়ায় ফুটবলাঙ্গনে আলোচনা ছিল বিষয়টি হালকাভাবেই দেখা হচ্ছে। সাফের খেলার আগে তাদের নির্দেশনা ও সাক্ষাতের পরিকল্পনায় সেটারই ইঙ্গিত মিলছে। যেটা সামগ্রিকভাবে ফুটবল ও ক্রীড়াঙ্গনেরই ক্ষতি।
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ দলে শৃঙ্খলা ও ঐক্যের অভাব ছিল। দলের সঙ্গে থাকা অন্য কর্মকর্তারাই এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। কোচ-ফুটবলাররা যে যার মতো হোটেল থেকে বেরিয়েছেন। এসব দেখভালের দায়িত্ব ম্যানেজারের। আমিরুল ইসলাম বাবু যেটা সঠিকভাবে করতে পারেননি বলে ধারণা অনেকের। তাই ম্যানেজার পরিবর্তনের একটা দাবি ছিল। যদিও বাফুফে সভাপতি ম্যানেজারের পক্ষেই অবস্থান, ‘আমরা আসিয়ান কাপের সেটআপই সাফে রাখার চেষ্টা করব। কিন্তু এটা জাতীয় দল কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হতে হবে।’
২৫ অক্টোবর রবিবার সাফের জন্য জাতীয় দলের ফুটবলারদের রিপোর্টিং। ম্যানেজারের কাছেই ফুটবলাররা সাধারণত রিপোর্ট করেন। কমিটির সভা এখনও হয়নি। আসিয়ান কাপে অনুশীলন দুদিন হওয়ার পর ম্যানেজার বদল হয়েছিল। সাফে কী হয়, সেটাই দেখার বিষয়। ফুটবলসংশ্লষ্টিদের অনুমান, পারিপার্শ্বিক নানা চাপে ম্যানেজারকে আগলে রাখতেই সাদ-সোহেল ইস্যুতে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত। সেই অনুমানের অনেকটা সত্যতা স্থানের নাম প্রকাশ না করা এবং অভিযোগ ওঠার এক মাস পর অভিযুক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা।
৪০ বছর পর বাংলাদেশ ফুটবল দল ৯ গোল হজম করে। এরপর ফুটবলারদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ। জাতীয় দল কমিটির সভা যেখানে জরুরি হওয়ার কথা সেখানে হয়েছে দুই দফা পিছিয়ে ১১ অক্টোবর। সেই সভায় ম্যানেজার, দলনেতা, কো-অর্ডিনেটর রিপোর্ট কমিটির সদস্যরা জানতে পারেননি। এমনকি কোচের রিপোর্টও পাননি তারা। দুই ফুটবলারের শৃঙ্খলা ইস্যুতে তদন্ত শেষে কমিটিকে জানানোর কথা সভাপতি নিজেই সভার পর ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন। সেই বিষয়েও এখনো অজ্ঞ কমিটির অন্যরা।
এজেড/এমএমএম
