শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারি হত্যা মামলার আসামি কারাবন্দি সাবেক ছাত্রদল নেতা রবিউল ইসলাম বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন । গত মঙ্গলবার গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া এলাকায় বাবার জানাজায় অংশ নেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
জানাজা শেষে জেলা পুলিশ ও সাঘাটা থানা পুলিশের পাহারায় তাকে আবার গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
রবিউল ইসলামের বাবা শাহ আলম মারা যাওয়ার পর তার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে তিন থেকে চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার অনুমতি দেন।
অনুমতি পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের জন্য কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নেন রবিউল। এ সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোনারপাড়ায় আলোচিত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারি ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিনের জোড়া খুনের ঘটনায় রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।
বাবার মৃত্যুর পর জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হলে মানবিক বিবেচনায় তাকে অল্প সময়ের জন্য পরিবারের কাছে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পরিকল্পিত ভাবে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল, জব্বারসহ ১০ থেকে ১৩ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমে সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করে। পরে সাইফুল্লাহ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকে ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। হামলার পর অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ওই দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফুল্লাহ বারীর মৃত্যু হয়। পরে ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৮ আগস্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান সালাউদ্দিন।
এ ঘটনায় সাইফুল্লাহ বারীর বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ২২ জুন সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলার ৪ নম্বর আসামি রবিউল ইসলাম।
