পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে প্রথমে আস্থা অর্জন, এরপর ভয় দেখিয়ে বিকাশের এককালীন গোপন নম্বর (ওটিপি) আদায়। আর সেই নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হচ্ছে টাকা। কেনাকাটাসহ ব্যক্তিগত নানা তথ্য জানিয়ে বিশ্বাস অর্জনের পর এভাবেই প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে একটি চক্র। তাদের টার্গেট হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পুলিশের সদর দপ্তর থেকে ফোন এসেছে—এমন পরিচয়ে কল পেয়ে নিজের বিরুদ্ধে মামলার কথা শুনে হতবাক হয়ে যান মিরপুরের বাসিন্দা সনি হাসান। তাঁর দাবি, মামলার আসামির ফোন নম্বরের সঙ্গে নিজের নম্বরের মিল থাকায় তিনি বিপাকে পড়েছেন বলে জানানো হয়। তবে কথার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা বুঝতে পারার পরই বদলে যায় ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ। পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে এমন কৌশলে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন অনেকেই। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী থেকে গণমাধ্যমকর্মী—বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এমন ফোন কল পেয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আশরাফ রহমান বলেন, ‘আমাকে ফোন করে বলা হয়, আপনার নম্বরটি আমাদের সার্ভারে যুক্ত হয়েছে। আমরা পেয়েছি, তবে আপনার নম্বরটি ক্লোন করে অনেকেই অপরাধ করছে। বিষয়টি আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছিল। এরপর আমাকে বলা হয়, স্যার, আপনাকে একটি লিংক দিচ্ছি, সেটিতে ক্লিক করেন। লিংকে ক্লিক করার কথা বলতেই আমি বুঝতে পারি, এটি একটি ফিশিং লিংক। এর মাধ্যমে হ্যাক করা হবে অথবা প্রতারণার শিকার হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ বাংলাদেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল একটি প্রতিষ্ঠান। বিপদে পড়লে মানুষ পুলিশের ওপর ভরসা করে, পুলিশের কাছে আশ্রয় নেয়। পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করা হলে মানুষের আর যাওয়ার জায়গা থাকবে না।’
স্টার নিউজের প্রতিবেদক নাঈম আবির বলেন, ‘ফোন করে তারা যে তথ্য দিচ্ছিল, সেগুলো সঠিক ছিল। তারা যে লেনদেনের কথা বলছিল, সেটি আমি কবে, কোন তারিখে এবং বিকেলে করেছি, এমনকি কত টাকার লেনদেন করেছি, সেই তথ্যও তাদের কাছে ছিল। এভাবে সঠিক তথ্য দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের বিশ্বাস করতে হয়েছে। ফলে একপর্যায়ে আমি ভয় পেয়ে যাই।’
প্রতারক চক্র প্রথমে ব্যক্তিগত লেনদেনের তথ্য দিয়ে আস্থা অর্জন করে। এরপর মামলার ভয় দেখিয়ে চাওয়া হয় বিকাশ অ্যাকাউন্টের তথ্য। কখনো এককালীন গোপন নম্বর (ওটিপি), আবার কখনো প্রতারণার ফাঁদে ফেলার লিংক পাঠানো হয়। একবার ফাঁদে পা দিলেই মুহূর্তে খোয়া যেতে পারে অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ।
পুলিশ বলছে, এ ধরনের ফোন কল পেলে প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস না করে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিলে প্রতারণার ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
এ বিষয়ে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘ডিএমপি থেকে এ ধরনের কোনো ওটিপি বা লিংক পাঠানো হয় না। একইভাবে কারও কাছে ওটিপি চাওয়াও হয় না। প্রতারকরা প্রতারণার জন্য নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে। এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার। ফিশিং লিংকের মাধ্যমে কীভাবে হ্যাক করা হয়, সে বিষয়ে এখন অনেকেই জানেন।’
অপরাধীরা নিত্যনতুন কৌশলে মানুষকে বোকা বানিয়ে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সাইবার টিম কাজ করছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
