উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক আসর খেলতে আসা ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কোমোর ঘরের মাঠ জিউসেপ্পে সিনিগালিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকদের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেন আর্জেন্টিনার তরুণ তারকা নিকো পাজ। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে জোড়া গোল করার পাশাপাশি একটি গোলেও সরাসরি অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের পয়েন্ট টেবিলে নবম স্থানে উঠে এসেছে কোমো, আর টানা ব্যর্থতায় ২০তম স্থানে নেমে গেছে এরিক টেন হাগের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে কোমো। খেলা শুরুর দ্বিতীয় মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দারুণ এক বাঁকানো শটে দলকে এগিয়ে নেন পাজ। সে সময় ইউনাইটেড ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ার সামনে থাকলেও তিনি শটটি প্রতিহত করতে পারেননি এবং পরাস্ত হন গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স। প্রথমার্ধে এই ব্যবধান বজায় রেখে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৪৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। পাজের বাড়ানো নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ল্যামেন্সের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান আনাস্তাসিওস দুভিকাস। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর টানা তিন ম্যাচে তৃতীয় গোল।
এরপর একক দক্ষতায় ব্যবধান ৩-০ করেন ম্যাচসেরা পাজ। ডান পাশের টাচলাইনের কাছে ইউনাইটেডের কার্লোস বালেবার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে প্রায় ৩০ মিটারের বেশি পথ কোণাকুণি এগিয়ে গিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান এই আর্জেন্টাইন। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় কাইকি ব্রুনোর বাড়ানো ক্রসে হেডের মাধ্যমে কোমোর হয়ে চতুর্থ গোলটি আদায় করেন সেন্টারব্যাক জ্যাকোবো রামোন। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে আমাদ দিয়ালোর ক্রস থেকে জশুয়া জির্কজি ইউনাইটেডের পক্ষে একটি গোল পরিশোধ করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে।
ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে জড়িয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গত সপ্তাহে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারের ম্যাচে প্রথম মিনিটেই গোল হজম করেছিল তারা। ফলে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার টানা দুই ম্যাচে শুরুর দুই মিনিটের মধ্যে গোল হজম করা প্রথম ইংলিশ ক্লাব হওয়ার বিব্রতকর নজির গড়েছে ইউনাইটেড। এ ছাড়া টুর্নামেন্টে নিজেদের সর্বশেষ ১১টি অ্যাওয়ে ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে তারা। বিপরীতে, জাতীয় দলে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে মাঠে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন নিকো পাজ।
