বাবার সম্পত্তির ভাগ না পাওয়ার অভিযোগে তার জানাজা আটকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে। নিজের ভাগের এক বিঘা জমি বুঝে পাওয়ার দাবি জানিয়ে জানাজায় বাধা দেন মেয়ে হালিমা বেগম। এতে সকাল ১০টায় জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা বাবার মরদেহ বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জানাজা শেষে দাফন করা হয় নাজির উদ্দিনের মরদেহ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জিল্লুর রহমান।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নাজির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালীদহ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। তার এক ছেলে ইদ্রিস আলী (৪৮) ও এক মেয়ে হালিমা বেগম (৫০)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাজির উদ্দিন জীবদ্দশায় তার সম্পত্তি ছেলে ইদ্রিস আলীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে জড়ো হন। তবে সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধের জেরে জানাজায় বাধা দেন মেয়ে হালিমা বেওয়া।
হালিমার অভিযোগ, তার বাবা জীবিত থাকতেই কৌশলে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে সম্পত্তির ভাগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নিজের ভাগের এক বিঘা জমি বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার জানাজা হতে দেবেন না বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, নাজির উদ্দিনের ছেলে ইদ্রিস আলীর দাবি, তার বাবা স্বেচ্ছায় তাকে জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। ওই সম্পত্তিতে বোনের কোনো ভাগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ নিয়ে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন সমঝোতার চেষ্টা করলেও প্রথমে তা সফল হয়নি। ফলে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মরদেহ বাড়ির উঠানেই পড়ে থাকে। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জানাজা শেষে নাজির উদ্দিনকে দাফন করা হয়।
ইউপি সদস্য মো. জিল্লুর রহমান বলেন, নাজির উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রোববার বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার মেয়ে সম্পত্তির ভাগ না পাওয়ার অভিযোগে জানাজা আটকে রাখেন। পরে বিষয়টি সমাধান শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে ধাপেরহাট তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক এস্তেখার হাসান বলেন, এ ঘটনায় মৌখিক অভিযোগ নিয়ে এক ব্যক্তি তদন্তকেন্দ্রে এসেছিলেন। তার কাছে লিখিত অভিযোগ চাওয়া হয়েছিল। পরে তিনি আর আসেননি।
