Published on
:
2 min read
এই সময়:শেষ অর্থবর্ষে মোট ক্ষতির পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি টাকা! গত মার্চের পর থেকেও সেই লোকসানের বহর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই অবস্থায় মরীয়া হয়ে খরচ কমানোর কথা ভাবছে এয়ার ইন্ডিয়া।
সংস্থার সিইও হিসেবে সবে যোগ দিয়েছেন ইথিওপিয়ার টিওলডে গেবরেমারিয়াম। আগে দীর্ঘদিন ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের কর্তা হিসেবে সেই সংস্থাকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর পালকে। সেই গেবরেমারিয়ামের একটি ই–মেল বার্তা পৌঁছেছে এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মীদের কাছে। যেখানে বলা হয়েছে, কোথায় কোথায় খরচ কমানো সম্ভব, তা খতিয়ে দেখতে একটি ডেডিকেটেড টিম বা দল গঠন করা হয়েছে। তবে সংস্থার নিজস্ব অফিসারদের নিয়ে সেই টিম গঠিত হয়েছে নাকি বাইরের পেশাদার সংস্থার টিম এই কাজে নেমেছে, সেটা সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্টে পরিষ্কার হয়নি। তবে, পেশাদার সংস্থাকে দিয়ে এই খরচ কমানোর কাজ করে বহু সংস্থাই। খরচ কমানোর আইডিয়া দিতেও কর্মীদের জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, যাঁর আইডিয়া কার্যকরী হবে তাঁকে পুরস্কৃতও করা হবে।
২০২২–এ হাতবদল হয় এয়ার ইন্ডিয়ার। তার আগে সে ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। উল্লেখ্য, তখনই লোকসানে চলছিল এয়ারলাইন্স। টাটা গোষ্ঠী দায়িত্ব তুলে নেয় এয়ার ইন্ডিয়ার। তার আগে থেকেই সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সঙ্গে মিলিত ভাবে ভিস্তারা এয়ারলাইন্স চালাচ্ছিল টাটা–রা। সেই ভিস্তারা এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে মিশে যাওয়ায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সেরও অংশীদারি কায়েম হয় এয়ার ইন্ডিয়ায়। এখন ভয়ঙ্কর লোকসানের মুখে টাটা গোষ্ঠী ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে নতুন করে আরও প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। সেই আবেদন মঞ্জুর হলে বেশ খানিকটা অক্সিজেন পাবে এয়ার ইন্ডিয়া।
তবে, এই মুহূর্তে সমস্ত এয়ারলাইন্সের জন্যই সামগ্রিক পরিস্থিতি বেশ খারাপ। বিশেষ করে ভারতীয় এয়ারলাইন্সের। যুদ্ধের আবহে ইরানের আকাশ এখন পুরোপুরি বন্ধ। সমস্ত ফ্লাইটকে অনেকটা ঘুরে ইউরোপ–আমেরিকা যাতায়াত করতে হচ্ছে। সে ভারতীয়ই হোক বা বিদেশি। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিমান জ্বালানির উর্ধ্বমুখী দাম। তার পিছনেও কারণ সেই যুদ্ধ। এমনিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সাপ্লাই কমেছে। তার সঙ্গে জুড়েছে ইজ়রায়েল ও ইরানের সংঘাত। সেখানে ইজ়রায়েলের হয়ে যুদ্ধে নেমেছে আমেরিকা। যে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সাপ্লাই হতো, সেই হরমুজ়ই কার্যত বন্ধ। সবমিলিয়ে জ্বালানি কিনতে গিয়ে রক্ত ঝরছে এয়ারলাইন্সগুলির।
এ দিকে, অপারেশন সিঁদুরের পরে পাকিস্তানের আকাশে ভারতীয় এয়ারলাইন্সের ঢোকা একেবারে বন্ধ। এত দিন পূব থেকে পশ্চিমে যাতায়াতের জন্য সবচেয়ে ছোট ও লাভজনক রুটই ছিল পাকিস্তান–ইরান। ইরানে ঢুকতে না পারলেও অন্য বিদেশি ফ্লাইট এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং তুর্কমিনিস্তান হয়ে যাতায়াত করছে। তাতে খুব বেশি জ্বালানি পুড়ছে না। কিন্তু, ভারতীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে এয়ার ইন্ডিয়া ঢুকতে পারছে না পাকিস্তানে। ফলে দিল্লি থেকে তাদের ফ্লাইটকে অনেকটা ঘুরে মুম্বই হয়ে সৌদি আরবের আকাশ দিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি পুড়ছে অনেক বেশি। ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলির মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়াই ইউরোপ, আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট চালায়। এই আবহে তারা বহু ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
এর সঙ্গে জুড়েছে আমেদাবাদের সেই এয়ারক্র্যাশ। ২০২৫–এর জুনে লন্ডনে উড়ে যাওয়ার মুখে আমেদাবাদে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার ড্রিমলাইনার। মারা যান ২৬০ জন। অত বড় বিমানের ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া, মৃত এত জনকে বিপুল ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়েও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার। ফলে, ঘুরে দাঁড়াতে গেলে নতুন টাকার ইনফ্লো এবং খরচ কমানো ছাড়া আর কোনও রাস্তা দেখছে না এয়ারলাইন্স।
