স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ফাহিম চৌধুরী (২০) ও হিমেল দাস (১৯) নামে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে হিমেল দাস গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। একইদিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে প্রাণ হারান ফাহিম চৌধুরী।
ফাহিম চুনারুঘাট উপজেলার বিলপাড় গ্রামের রাসেল মিয়ার ছেলে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন দুধপাতিল গ্রামের মাহি (১৯) ও বিলপাড় গ্রামের শুভ (২২)। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে আমু চা-বাগান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খান। এতে তিনজনই ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিকেল ৪টার দিকে দিরাই-শ্যামারচর সড়কের ভরারগাঁও এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে হিমেল দাস ও জয় দাস (২০) গুরুতর আহত হন। তাঁরা দুজনই দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের মাহাতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা। হিমেল ওই গ্রামের মতি লাল দাসের ছেলে এবং জয় জহরলাল দাসের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিমেল ও জয় একটি মোটরসাইকেলে দিরাই সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই বন্ধু গুরুতর আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সিলেটে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হিমেলের মৃত্যু হয়।
অন্য মোটরসাইকেলে থাকা তামিম মিয়া ও সাইফুল মিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁরা যথাক্রমে দিরাই উপজেলার জাহানপুর গ্রামের নুরুল হক ও রন্নারচর গ্রামের ফয়জুল মিয়ার ছেলে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
