প্রতিনিধি, দিরাই, সুনামগঞ্জ · ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাঁশ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক যুবকের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের সাকিতপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ওই যুবকের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।
এ সময় জরুরি বিভাগের বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সাকিতপুর গ্রামের মোক্তার চৌধুরীর বাঁশ কাটতে যান একই গ্রামের জীবু চৌধুরী। এতে বাধা দেন জাহাঙ্গীর নামের আরেক ব্যক্তি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে জীবু চৌধুরী গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আরও জানা গেছে, জাহাঙ্গীরের ভাই আনহার সরদার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন জীবু চৌধুরীর উপর তাঁরা হামলা চালান। এ ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার সময় সেখানে থাকা বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ভাঙচুর করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভাঙচুরে একটি ইসিজি (ইসিজি) মেশিন, পানির কল, ওজন মাপার যন্ত্রসহ চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত কয়েকটি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দিরাই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. প্রশান্ত তালুকদার বলেন, গ্রামের সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তি জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালায়। এতে ইসিজি মেশিনসহ হাসপাতালের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে দিরাই থানা-পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
