অনলাইন ডেস্ক: বিশেষ করে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে বাড়ানো হয়েছে টহল এবং বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রস্তুত বিএনপি : রিজভী
এসআরবির বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা
দুর্গাপূজা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বহুমুখী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কন্ট্রোল রুম স্থাপন এবং জরুরি সেবার জন্য হটলাইন চালু রাখা হয়েছে।
এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, মণ্ডপকেন্দ্রিক নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ মোটরসাইকেল টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানি ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সাইবার উইংয়ের নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আকাশপথে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার মোতায়েনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এসআরবির সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নগরীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট এবং বিশেষ টহল দল কাজ করছে।
ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকা, জনবহুল স্থান এবং বড় পূজামণ্ডপে যাতায়াতের সড়কগুলোর কৌশলগত পয়েন্ট চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে পুলিশ ও এসআরবিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যদাতাদের পরিচয় ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তিন স্তরের নিরাপত্তা
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি জানান, পূজাকে কেন্দ্র করে প্রাক্-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়—এই তিন পর্যায়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশের পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আইজিপি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেল চালু থাকবে।
আনসারের ২ লাখ ১২ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন
শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে আগাম নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) মো. আইয়ুব আলী বাসসকে জানান, প্রতিমা নির্মাণস্থান, পূজামণ্ডপ ও মন্দির পরিদর্শনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজার ৮৩৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে আটজন করে এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
আইয়ুব আলী আরও বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থাপনা, আলোকসজ্জা এবং অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
নিরাপত্তায় ব্যবহার হবে বিশেষ অ্যাপ
দেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এ বছর রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেশি।
পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তদারকি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) বিশেষ অ্যাপ দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে দুর্গোৎসবের পুরো সময়জুড়ে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
