বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের দক্ষিণ মাইজপাড়া এলাকায় খোরশেদ আলম (২০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদক পাচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে দক্ষিণ মাইজপাড়া এলাকায় জড়ো হয়ে স্থানীয় লোকজন এ দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর এলাকায় চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। এমনকি প্রতিশোধ নিতে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
অভিযুক্ত খোরশেদ আলম শীলকূপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মাইজপাড়া এলাকার সাচি মিয়া ওরফে পকেটমার আইচ্চা’র ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় মারামারি ও চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে চলাচলের সময় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। সড়কে অটোরিকশা রেখে পথ আটকে দেওয়া, চুরির ঘটনা এবং প্রতিবাদকারীদের হুমকি দেওয়ার কারণে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে মাইজপাড়া হাজির পুকুরপাড় এলাকায় খোরশেদের বাড়ির পাশের সড়কে অটোরিকশা রেখে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এ সময় অটোরিকশাটি সরাতে বললে নিউ স্যাফরানের মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আবু তাহেরকে দেশীয় অস্ত্র কিরিচ নিয়ে ধাওয়া করা এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে খোরশেদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, ‘ঘটনারদিন সিএনজি করে রাতে পরিবার নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে খোরশেদের অটোরিকশা সড়ক থেকে সরাতে বললে তার মা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, এরইমধ্যে খোরশেদ কিরিচ নিয়ে এসে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে ধাওয়া করে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২২ সালের আগস্টে চুরির কাজে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে খোরশেদ ও তাঁর সহযোগীরা গ্রামপুলিশ মো. আবদুল মালেককে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। এ ঘটনায় আবদুল মালেক বাদী হয়ে খোরশেদকে আসামি করে মামলা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই মামলায় কারাভোগের পর এলাকায় ফিরে তিনি আবারও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালত বা পুলিশের নথি থেকে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শীলকূপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ নুরী বলেন, ‘খোরশেদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। গ্রামপুলিশকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
বাঁশখালী থানার অপারেশন অফিসার মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে।’
অভিযুক্ত খোরশেদ আলমের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদে চলাচল ও বসবাস করতে পারেন।
The post বাঁশখালীতে কিশোরগ্যাং সদস্য খোরশেদকে গ্রেপ্তারের দাবি এলাকাবাসীর appeared first on Ctgtimes.com.
