যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এ নির্বাচনকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। নির্বাচনে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের দু’কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন এবং স্থানীয় পর্যায়ের ভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এ নির্বাচন কেবল আইনপ্রণেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং ট্রাম্প প্রশাসনের দু’বছরের শাসন, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি, অভিবাসননীতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার ভূমিকার ওপর জনগণের মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচন (মিডটার্ম ইলেকশন) মূলত প্রেসিডেন্টের ওপর একটি গণভোটের মতো কাজ করে, যেখানে ভোটাররা অনেক সময় ক্ষমতাসীন দলকে ব্যালটের মাধ্যমে শাস্তি দিয়ে থাকেন। গত ৮০ বছরে অনুষ্ঠিত ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ১৮টিতেই ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসে আসন হারিয়েছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা লড়াই করছে; এই নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষ দুই বছর কেমন কাটবে।
২০২৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর ট্রাম্প তার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় । অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্যনীতি পুনর্গঠন, সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল তার নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়নের পথে অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক সংকট তার প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে ভোট হয় না। তবে প্রতিনিধি পরিষদের সবকটি, ৪৩৫টি আসনে এবং সিনেটের নিয়মিত নির্বাচনের আওতাভুক্ত আসনগুলোতে নির্বাচন হয়। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তা অত্যন্ত সংকীর্ণ। তাদের রয়েছে ২১৮ আসন আর ডেমোক্রেটদের আসন ২১৪টি। একজন নির্দলীয় ও ২ টি আসন শূন্য রয়েছে। ফলে সামান্য কয়েকটি আসনের পরিবর্তনেই কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে সে লক্ষণ কিছতা দেখা যাচ্ছে। ফলে এই নির্বাচনকে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচনা করছেন। তার চিত্র দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও জনমত সমীক্ষায়।
রয়টার্সের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষাকৃত অনিশ্চিত। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণের পথ কঠিন হয়ে উঠবে। প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, ব্যয়, নিয়োগ এবং নীতিগত কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের সুযোগও বাড়বে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন।
সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আল জাজিরা বলছে, নির্বাচনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার লড়াই। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যরা দু’বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন বলে এ কক্ষের ৪৩৫টি আসনেই ভোট হবে। তবে অধিকাংশ আসনেই ফলাফল প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে একজন প্রার্থী অন্যদের চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এর ফলে মাত্র ৫০টির মতো আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে, যা নির্ধারণ করবে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। যদিও পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে, তবুও প্রায় সব নির্ভরযোগ্য নির্বাচনী বিশ্লেষকই পূর্বাভাস দিয়েছেন যে ডেমোক্র্যাটরা হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ লাভ করবে; কেউ কেউ বলছেন, তারা ১৫টি আসন পর্যন্ত ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারে।
সিনেটে ১০০ আসনের মধ্যে এবারের নির্বাচনে মাত্র ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ১২টি আসনে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের সংখ্যা বাড়ায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ লাভে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। টেক্সাস ও কানসাসের মতো রিপাবলিকান-অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও বামপন্থী প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে উঠে এসেছেন, যা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সিনেটে রিপাবলিকানদের রয়েছে ৫৩ আসন আর ডেমোক্রেটদের আসন ৪৫ টি। ২ টি আসন নির্দলীয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কংগ্রেসের সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টি ট্রাম্প ও তার দলের জন্য অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি। কিন্তু ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় কতা সহনীয় হয়েছে? যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয়, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে উদ্বেগ মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের অসন্তোষ দূর করতে পারে না। মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে, বাড়িভাড়া দিতে কিংবা চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খায়, তখন সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের দাবির সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার তুলনা করে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক ভোটার ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তুষ্ট। জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার অর্থনীতি অথবা জীবনযাত্রার ব্যয়কে আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলার কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে। এসব তথ্য রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থাকলেই যে ভোটাররা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিরোধী দল অর্থনৈতিক সংকটের বিকল্প সমাধান কতা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে পারছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ডেমোক্র্যাটরা যদি শুধু ট্রাম্পবিরোধী বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা অসন্তুষ্ট ভোটারদের পুরোপুরি নিজেদের পক্ষে টানতে পারবে না।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য কঠোর অভিবাসননীতি। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি তার সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রিপাবলিকানদের রক্ষণশীল ভোটারদের একটি অংশ মনে করে, কঠোর সীমান্তনীতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু এ নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। অভিবাসন অভিযান, বহিষ্কার কার্যক্রম এবং মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি অভিবাসননির্ভর বিভিন্ন শিল্পে শ্রমিকের প্রাপ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি, নির্মাণ, খাদ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের নীতির অর্থনৈতিক প্রভাবও ভোটারদের বিবেচনায় আসতে পারে।
ট্রাম্পের জন্য এখানে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে তার নিজস্ব সমর্থকদের কাছে কঠোর অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে হবে, অন্যদিকে মধ্যপন্থী ও দোদুল্যমান ভোটারদের উদ্বেগও বিবেচনা করতে হবে। অতিরিক্ত কঠোরতা যদি মানবিক সংকট বা অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে, তাহলে তা রিপাবলিকানদের নির্বাচনী অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আন্তর্জাতিক অঙ্গনও তার রাজনৈতিক মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান যুদ্ধে বিজয়ী না হওয়া এবং ইরানের রেজিম পরিবর্তন করার স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে পড়েছে। ফলে ট্রাম্প আন্তর্জাতিকভাবেই বিরূপ সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্ব, বাণিজ্যযুদ্ধ, শুল্কনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে দেশটির ভেতরে বিতর্ক ও সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রভাব জ্বালানি ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি অংশ মনে করে, প্রচলিত কূটনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে তার সরাসরি ও কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর। তাদের কাছে সামরিক শক্তি, দর-কষাকষির ক্ষমতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার নীতি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অন্য অংশের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে দীর্ঘ মেয়াদে কতা উপকৃত করছে। ইরান যুদ্ধে দেশটির বিপুল ব্যয় আগামী দিনগুলোকে কঠিন করে তুলতে পারে।
যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব যখন জ্বালানির দাম, সরকারি ব্যয় এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় প্রতিফলিত হয়, তখন তা আর শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় থাকে না। ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। এ কারণে ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক নীতির সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ এবং বিরোধী ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ তাদের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ৩০ শতাংশে নেমে আসার চিত্র উঠে এসেছে। একই জরিপে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ রিপাবলিকান সমর্থকদের তুলনায় বেশি। অর্থনীতিও ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে। আরো কয়েকটি জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
তবে জরিপের ফলকে নির্বাচনের চূড়ান্ত রায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। জাতীয় পর্যায়ের জনমত এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি এক নয়। কোনো দল জাতীয় ভোটে এগিয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে। বিশেষ করে সিনেট নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে অসন্তোষকে ভোটে রূপান্তর করা। তরুণ ভোটার, মধ্যবিত্ত পরিবার, শহরাঞ্চলের ভোটার এবং স্বাধীন বা স্বতন্ত্র ভোটারদের সমর্থন অর্জনে তাদের কার্যকর কৌশল নিতে হবে। একই সঙ্গে দলটির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সামলে বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক কর্মসূচি তুলে ধরাও জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে রয়েছে। আগেই বলেছি এই নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ‘নো কিংস’ (কোনো রাজা নয়) প্রতিবাদ কর্মসূচি। আছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন কাজ ও নীতির তীব্র সমালোচনা। নির্বাচনের এসবের প্রভাব পড়লে তা হয়ে উঠতে পারে তার জন্য একটি নতুন সংকেত। বিশ্লেষকরা মনে করেন আগামী কয়েক দিনে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।
