ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘খুব শিগগির’ শেষ হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানকে ‘কঠিন শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের ধৈর্য শেষ হয়ে এসেছে।
বুধবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলেও আবারও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে সিদ্ধান্তও খুব শিগগির নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে ট্রাম্প দেশটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, দেশটির কার্যকর অর্থনীতি নেই এবং সেনাসদস্যদের বেতন দেওয়ার সামর্থ্যও নেই।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার বদলে ওই প্রশাসন দেশটিকে বিপুল অর্থ দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অষ্টম মাসে গড়িয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব বিনিময় হলেও আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।
গত রোববার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেন, হরমুজ প্রণালি সাত দিনের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় থাকার পর্যায়ে আর নেই ইরান।
ইসলামাবাদে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে। ওই সমঝোতায় সামরিক অভিযান বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি অস্থায়ী কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর আওতায় আরও বিস্তৃত সমঝোতা চায় তেহরান।
সূত্র: শাফাক নিউজ
