পুজোর দিনগুলোতে বিশেষ করে নিরামিষ খাবার খাওয়ার দিনে সবাই এমন খাবার খেতে পছন্দ করেন যা হালকা হলেও অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা রাখতে সাহায্য করবে। তাছাড়া পুজোর সময় পুজোর কাজকর্ম করতে গিয়ে অনেক খাটাখাটনিও হয়। ফলে শরীর এমনিতেই ক্লান্ত থাকে।
সারাদিনের খাটাখাটনি থেকে শুরু করে দিনভর ক্লান্তি ভাব সবমিলিয়ে পুজোর এই দিনগুলোতে সকলেই রান্নার ঝামেলায় এড়িয়ে চলতে চান। তাই আপনাদের জন্য আজ নিয়ে এসেছি এমন পাঁচটি খাবার যা শুধু পুজোর দিনে খিদে মেটাতে সাহায্য করবে না, সেইসঙ্গে বছরের অন্যান্য দিনগুলিতেও শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি যোগাতেও সাহায্য করবে।
সাবুদানা
পুজোর দিনে উপোস ভাঙার পর, নিরামিষ খাবার হিসাবে সাবুদানা খুবই স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। সাবুদানার মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট। তাই এটি রোজকার খাবার তালিকাতেও রাখা যেতে পারে। অধিকাংশ ভারতীয়রা সাবুদানার খিচুড়ি খেতে খুবই পছন্দ করেন। ভাজা বাদামের সঙ্গে সাবুদানার খিচুড়ি খেতেও খুবই সুস্বাদু হয়। নিরামিষ খাবার হিসেবে সাবুদানারা খিচুড়িতে প্রয়োজন অনুসারে কিছু সবজিও যোগ করা যেতে পারে।
মাখানা
উপোসের দিন সবাই হালকা খাবার খেতে পছন্দ করেন। তাই উপোস করার পর নিরামিষ খাবার হিসেবে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ কম প্রোটিন এবং হালকা মুচমুচে মাখনা খেতেও খুবই ভালো লাগে। কেউ চাইলে খুব সামান্য পরিমাণ ঘি দিয়ে মাখনা ভেজে নিতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য কিছু মশলাও যোগ করা যেতে পারে। মাখনের সঙ্গে বাদাম কিংবা দানা জাতীয় খাবার খেতে ভালোও লাগে। তাছাড়া পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ মাখনা খুবই স্বাস্থ্যকর হয়ে থাকে।
দই
দুগ্ধজাত খাবার খেতে যদি কোন সমস্যা না থাকে তাহলে পুজোর দিনে নিরামিষ খাবার হিসাবে দই প্রোটিনের খুবই ভালো একটি উৎস হতে পারে। প্রোটিন জাতীয় খাবার সব সময় খিদে মেটাতে সাহায্য করে। তাছাড়া কেউ চাইলে শুধু দই না খেয়ে দইয়ের সাথে কুচানো ফল মিশিয়ে, রায়তা বানিয়েও খেতে পারেন।
এছাড়া অন্যান্য খাবার তৈরি করার জন্য দই ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে দই যেন টাটকা হয়। তবে দুগ্ধজাত খাবার অনেকের সহ্য হয় না। যাদের গ্যাস অম্বলের সমস্যা থাকে তারা প্রোটিনের উৎস হিসাবে দইয়ের পরিবর্তে অন্য কোনো খাবার বেছে নিতে পারেন।
কুট্টুর আটার খাবার
পুজোর উপোস শেষ হওয়ার পর কুট্টুর আটার রুটি বা অন্য খাবার বেশ ভালো অপশন হতে পারে। এতে কার্বোহাইড্রেট ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ কুট্টুর আটার রুটি শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তবে বেশী তেলে ভাজা খাবারের পরিবর্তে কম তেলে তৈরী খাবার খাওয়াই ভালো।
https://youtu.be/uc8rfW3anwI?si=W5IFab7bDv2l8jpl
বাদাম ও দানা জাতীয় খাবার
কাজু, আমন্ড, আখরোট এবং কুমড়োর বীজে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও নানা পুষ্টি উপাদান। তাই এই সমস্ত খাবার অল্প পরিমাণে খেলেও তা অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া উপশির সময় হঠাৎ খিদে পেলেও একমুঠো বাদাম খাওয়া যেতে পারে।
