ভারতের আধিপত্যবাদ দূর করতে জনগণ রাজপথে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে রংপুরে মার্চ ফর ইনসাফের সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং পিলখানা ও শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচার দাবি করেন।
এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের উত্তরবঙ্গের মার্চ ফর ইনসাফ নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে রংপুর নগরীর লালবাগ এলাকায় পৌঁছায়। পরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। পরে কারমাইকেল কলেজের ফটকের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদী হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার এখনো বিচার সম্পন্ন করতে পারেনি। ওসমান হাদী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁকে নিয়ে কটূক্তিকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জবাব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও কার্যত পরাধীন অবস্থায় রয়েছে। দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা এখনো দিল্লির নির্দেশনায় চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সীমান্তে প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা ভারতের রীতিতে পরিণত হয়েছে, অথচ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশকে পশ্চিমবঙ্গের মতো ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্য মনে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাবের বলেন, দেশের শাসকেরা ভারতের সেবাদাস হতে পারেন, কিন্তু জনগণ ভারতের পক্ষে বক্তব্য দিতে রাজপথে নামেনি। জনগণ রাজপথে নেমেছে ভারতের আধিপত্যবাদ দূর করার জন্য।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসেও সরকারের হুঁশ ফেরেনি। খুন, গুম ও চাঁদাবাজি দূর করার জন্য গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য মানুষ রক্ত দেয়নি। সংসদে জনগণের অধিকার নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আবারও সংসদ ভবনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব তানসিম জুমা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে জোরালো বক্তব্য দেয়নি। বরং এসব ঘটনার বিচার দাবিকারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তানসিম জুমা আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। জুলাই যোদ্ধাদের সন্ত্রাসী বলা হলে সরকারে থাকা ব্যক্তিদেরও সেই অভিযোগের আওতায় আনা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দিনদুপুরে একজন মানুষকে হত্যা করা হলেও বিচার দাবিকারীদের জুলাই ব্যবসায়ী বলা হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে হয়নি; বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ রাজপথে নেমেছিল। শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় তাঁরা এখনো রাজপথে রয়েছেন।
ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় আবরার ফাহাদ, ইলিয়াস আলী ও শহীদ ওসমান হাদীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তানসিম জুমা। এ ধরনের ঘটনা আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
