Published on
:
1 min read
এই সময়: সাল ২০০৬, স্থান—উত্তর কলকাতার শহরতলি বরাহনগর। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের স্মৃতিবিজড়িত প্রাচীন জনপদ বরাহনগরে তখনও সে ভাবে রিয়েল এস্টেট বুম আছড়ে পড়েনি। বেঙ্গল ইমিউনিটি, বরাহনগর জুটমিলের পরিণতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে রাম পালের বেবিফুড তৈরির ছোট কারখানাটিও এই সময়ে বন্ধ হলো। রাম পাল খানদানি বড়লোক, ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পরেই কারখানা ও সংলগ্ন বসতবাড়ি বিক্রি করে উনি বরাহনগরের মায়া ত্যাগ করলেন। কারখানা ভাঙা পড়ল, পুরনো বসতবাটিও। জন্ম নিল জাহ্নবী প্যালেস—প্রায় ৭০টি ফ্ল্যাটের আবাসন, যা ২০ বছর পরেও বরাহনগর কুঠিঘাট অঞ্চলের সর্ববৃহৎ আবাসন।
রামবাবু তাঁর বাড়িতে দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026) করতেন। স্থানান্তরিত হয়ে নতুন জায়গায় তিনি পুজো করেন কিনা জানা যায় না, কিন্তু মা নিজে চাননি এখান থেকে চলে যেতে! জাহ্নবী প্যালেসের জন্মলগ্নেই সেই সময়ের নিরিখে বরাহনগরের বহিরাগত কয়েকটি পরিবার দুর্গার আরাধনায় ব্রতী হয়। দুই দশক পেরিয়ে এই আবাসনের পুজো এ বারে কুড়ি তম বর্ষে। অর্থের আতিশয্য কোনও দিনই এই পুজোয় ছিল না। অর্থের জৌলুসের বিপরীতে ভক্তি ও নিষ্ঠা আমাদের পুজোর মূলমন্ত্র। ষষ্ঠীতে দশভুজার হাতে অস্ত্র নিবেদনের মাধ্যমে দেবীর বোধন থেকে শুরু করে দশমীর দিন সিঁদুর খেলার শেষে গঙ্গায় ভাসান পর্যন্ত পুজোর প্রতিটি ধাপ সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়। তার সঙ্গে অবশ্য সংযোজন— একত্রে পংক্তিভোজন।
সামনের বার ‘একুশে পা’ হয়ে আরও বছর কুড়ি পর হয়তো বা অন্য প্রজন্মের হাতে শারদীয়ার আবাহনের দায়িত্ব বর্তাবে। থেকে যাবে জাহ্নবী প্যালেস, তার সত্তরটি পরিবার, একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার আর দুর্গতিনাশিনী।
