শুরুতে ১২ নভেম্বর ইউপি দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর ঘোষণা দিলেও পরে সেখান থেকে পিছিয়ে আসে কমিশন। এবার নতুন রোডম্যাপ অনুযায়ী ভোট শুরু হচ্ছে ২১ জানুয়ারি থেকে।
তবে এই ঘটনাকে সাদা চোখে দেখতে নারাজ বিরোধী দল—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি। সরকারের প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে এসে এ এম এম নাসিরুদ্দিনের কমিশন সুষ্ঠু ভোটে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সন্দিহান তারা।
এছাড়া শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নয়, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ ইসির কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপের প্রত্যাশা ছিল বিরোধী দলের। তবে সরকারকে সুবিধা করে দিতেই ইসি সে পথে হাঁটেনি বলে অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শুধু এই পাঁচ ধাপের নয়, বরং পুরো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ থাকা উচিত। আমাদের সিটি করপোরেশনগুলোতে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই, কাউন্সিলররাও নেই। এ ছাড়া প্রায় ৫০০টি উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। তিন শতাধিক পৌরসভাতেও নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। একইভাবে, অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদেও নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই।
এদিকে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, এখানে রাখঢাক করার কিছু নেই। আপনারা স্পষ্টভাবে বলুন, প্রথম ধাপের তারিখ যেহেতু ঘোষণা করে ফেলেছেন, তাই প্রথম ধাপে এই ইউনিয়নগুলো এবং এই এই জেলার ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন হবে। পরবর্তী ধাপে অমুক জেলার ইউনিয়নগুলোতে এবং তার পরের ধাপে অন্য জেলার ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন হবে।
ভোটের দিনক্ষণ থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট বলেও অভিযোগ তাদের। বলছেন, এমন পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করা অসম্ভব।
সারোয়ার তুষার আরও বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিরোধী দলসহ সাধারণ জনগণের আস্থা অর্জনের একটি সুযোগ তাদের সামনে রয়েছে। তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাবে কি না, তা একান্তই তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখার কথাও জানিয়েছে। তাদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় সরকার ও নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হলে তারা আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তবে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি থাকার কথাও জানিয়েছে জামায়াত ও এনসিপি। তাদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য অ্যাসিড টেস্ট। এ পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন তারা।
