যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ২০২৫ সালে জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে দুই বৈরী প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিয়ে ওঠা যুদ্ধ থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।
তার দাবি, পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত সংঘাত বড় ধরনের উত্তেজনার দিকে মোড় নেওয়া থেকে তিনি থামিয়েছিলেন উভয় পক্ষকে ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে।
আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি পুনরায় দাবি করেন, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতায় আরোহনের পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাসহ মোট আটটি ‘যুদ্ধ’ তিনি থামিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, আমি ভারত ও পাকিস্তানকে থামিয়েছিলাম। দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ—আমি তাদের থামিয়ে দিয়েছিলাম। বাণিজ্যের বিষয়টি কাজে লাগিয়ে আমি বলেছিলাম, ‘বন্ধুরা, আপনার যদি এমন করেন, তাজলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর বাণিজ্য করতে পারবেন না এবং প্রচুর অর্থও আয় করতে পারবেন না। আমি আপনাদের দুজনের ওপরই ২৫০ শতাংশের মতো বিশাল শুল্ক চাপিয়ে দেবো এবং সেক্ষেত্রে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্যই আপনারা করতে পারবেন না।’ এতে তারা অত্যন্ত বিচলিত হয়ে ওঠে এবং গোলাগুলি বন্ধ করে দেয়; আর এভাবেই যুদ্ধের অবসান ঘটে।
ফ্লোরিডার জনসভায় তিনি তার কথিত কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ফের হতাশা জানান তিনি। তিনি বলেন, আমি কি নোবেল পুরস্কার পেয়েছি? না।
উল্লেখ্য, গত বছর প্রাণঘাতী পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব ট্রাম্প বারবার দাবি করে এলেও, নয়াদিল্লি বরাবরই যেকোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করে এসেছে।
ভারতের ভাষ্যমতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা কার্যকর হয়েছিল পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও)-এর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে।
তবে যুদ্ধ থামাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবদান পাকিস্তান খোলাখুলিভাবেই স্বীকার করেছে।
গত বছরের ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করেছিল। এই সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা সন্ত্রাসী অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
ভারতের এই অভিযানের জবাবে ৮ মে থেকে ‘অপারেশন বুনিয়ন উল-মারসুস’ শুরু করেছিল পাকিস্তান। তবে ১০ তারিখের যুদ্ধবিরতির পর উভয় দেশ নিজেদের সামরিক অভিযান মুলতবি করে।
খুলনা গেজেট/এএজে
