গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে হোয়াইট হাউস। তার বিরুদ্ধে একের পর এক অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘হোয়াইট হাউস রাষ্ট্রদূত গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে।’ তিনি আরও বলেন, গিলফয়েল প্রশাসনের জন্য মূল্যবান সম্পদ ছিলেন এবং তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানানো হচ্ছে।
পরে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস গিলফয়েলের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পেয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গিলফয়েলকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হলো, তার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো তার পছন্দ হয়নি। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গিলফয়েলের সঙ্গে কথা বলেননি বলে জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে গিলফয়েল স্বীকার করেন, তার দায়িত্ব পালনের সময় শেষ হয়ে আসতে পারে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে তিনি বলেন, নিজের নাম, সুনাম ও সততা রক্ষায় জোরালোভাবে লড়বেন।
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার আগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ চেয়েছিলেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত হিসেবে দামি উপহার গ্রহণ এবং গ্রিসের একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের লবিস্টকে সরকারি বৈঠকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে অর্থ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গিলফয়েলের আইনজীবীরা। তার ভ্রমণ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি করেছেন তারা। পাশাপাশি, গিলফয়েল কেন্দ্রীয় সরকারের উপহার গ্রহণ ও তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলেছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
সাবেক ট্রাম্প-সমর্থক ও দাতা এরিক ডিটার্সের অভিযোগ, সিনেটে গিলফয়েলের নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার কয়েক দিন আগে তিনি তাকে বার্তা পাঠিয়ে আমেরিকান এক্সপ্রেসের ১ লাখ ডলারের বিল পরিশোধে অর্থ চেয়েছিলেন। বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনে তার বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গিলফয়েল বলে দাবি ডিটার্সের। তবে তিনি অর্থ দেননি।
ডিটার্স সিএনএনকে বলেন, এ ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। তবে গিলফয়েলের আইনজীবীরা এ অভিযোগকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, ডিটার্সের কাছে গিলফয়েলের বক্তৃতা ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করার পাওনা অর্থ বকেয়া ছিল। সেই অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি।
এক্সে দেওয়া পোস্টেও গিলফয়েল অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, কয়েক দশকের জনসেবার জীবনকে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত হতে দেবেন না।
ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে চার বছর বাগ্দান হয়েছিল গিলফয়েলের। পরে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেন তিনি। মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, গিলফয়েল তার পরিবারের সদস্য ছিলেন না; তিনি অনেক আগে তার ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন।