কাবাডি দলের দুর্দশা কাটছেই না। এশিয়ান গেমসের ব্যর্থতার পর কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে কেনিয়ার কাছেই হেরে গেল নারী দল। এশিয়ান গেমসের হতাশা কাটিয়ে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও আন্তর্জাতিক কাবাডিতে ফের বড় হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। আহমেদাবাদের বীর সাভারকর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচেই কেনিয়ার কাছে ৩৪-২৫ পয়েন্টে হেরে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচের শুরু থেকেই কেনিয়ার আগ্রাসী ও গতিশীল খেলার সামনে প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। বিশেষ করে কেনিয়ান দীর্ঘদেহী রেইডার লাভেন্দা ওধিয়ামবোর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। একাই ২৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন এই রেইডার, যা পুরো বাংলাদেশ দলের সমান এবং কেনিয়ার মোট অর্জিত পয়েন্টের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ। প্রথমার্ধেই ১২-৭ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ পুরো ম্যাচে চারবার অল-আউট হওয়ার ফলে পরাজয় এড়াতে পারেনি।
দলের হয়ে আঞ্জুয়ারা রাত্রি ও শ্রাবণী মল্লিক ৭ পয়েন্ট করে এবং বৃষ্টি বিশ্বাস ৫ পয়েন্ট অর্জন করেন। বোনাস পয়েন্টের সাহায্যে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করা হলেও রেইডিংয়ের ধারহীনতা এবং ডিফেন্সের চরম দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত হারের ব্যবধান বাড়িয়েছে।
একসময় এশিয়ান নারী কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ ও নারী কাবাডি বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে দেশের জন্য পদক জিতে আনা এই দলটি বর্তমানে যেন সাফল্যের ধারা হারিয়ে ফেলেছে। তবে টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে কেনিয়া ছাড়াও বাংলাদেশ দলের সামনে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ বাকি থাকায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনো রয়েছে। ইরান বা থাইল্যান্ডের মতো পরাশক্তি দলগুলো এই আসরে অংশ না নেওয়ায় পদকের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলেও, কেনিয়ার কাছে এই হার ও ম্যাচ শেষে কাবাডি ফেডারেশনের উদাসীনতা ও নীরবতা দলের প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
