The Sangbad · সাধারণ
চলনবিল রক্ষায় পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা জরুরি
১৯/১০/২০২৬

একসময় বর্ষা পেরিয়েও চলনবিলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি থাকত। এখন আশ্বিন মাসেই অনেক জায়গা পানিশূন্য হয়ে পড়ে। কমে যাচ্ছে মাছ, বদলে যাচ্ছে প্রকৃতি। শুধু ভূ-উপরিস্থ পানি নয়, চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থাও উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিলের মাত্র ১ শতাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সম্ভাবনা খুব বেশি। এই চিত্র ভবিষ্যতের পানিসংকটের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলনবিলের এই পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। বৃষ্টিপাত কমেছে। পদ্মা ও যমুনার পানিপ্রবাহেও পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে, বোরো ধান চাষে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়েছে। নাটোরে ২০১৯-২০ থেকে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে সেচযন্ত্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে। এ ছাড়া কাদামাটির স্তর বৃষ্টির পানি মাটির গভীরে প্রবেশে বাধা দেয়।এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কৃষি ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই সংকট বাড়তে পারে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেলে সেচের খরচ বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কৃষকের উৎপাদন ও আয়। শুকনো মৌসুমে জলাভূমি ও নদীতে পানি কমে গেলে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসও সংকুচিত হবে। তাই চলনবিলের সংকটকে শুধু পানির অভাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবিকার সঙ্গেও যুক্ত।এ অবস্থা মোকাবিলায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সেচে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নদী, খাল ও জলাধারের পানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে হবে। খাল ও জলপথের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং জলাভূমি দখল ও ভরাট বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।চলনবিল শুধু কৃষির সম্পদ নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাধার। এর পানি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা জরুরি। এখনই পরিকল্পিত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗