স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের সেন্ট্রাল সর্টিং সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানের এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন বিভাগের ম্যানেজার আফসার উদ্দিন বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় মামলাটি করেন।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন বিভাগের ম্যানেজার আফসার উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অজ্ঞাতপরিচয় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাজারীবাগ থানাধীন মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ রোডসংলগ্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারহাউজে হামলার ঘটনা ঘটে। ৩৫ থেকে ৪০টি মোটরসাইকেলে করে আসা মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরা ৭০ থেকে ৮০ জন এ হামলায় অংশ নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন ওয়্যারহাউজের ভেতরে প্রবেশ করে সিসিটিভি ক্যামেরা ও এর সংযোগ তার ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর তারা কার্যালয়ের আসবাবপত্র ও গ্রাহকদের মালামাল ভাঙচুর করেন। এ সময় আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। হামলাকারীদের মধ্যে ৮ থেকে ৯ জন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়, হামলায় প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরা, সার্ভার রুমসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া সিসকো কোর, রাউটার, এনভিআর, মনিটর ও ল্যাপটপসহ প্রায় ৩১ লাখ টাকার মালামাল লুট করে।
আগেও গেটে গিয়ে হুমকি
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের হাজারীবাগ সেন্ট্রাল সর্টিং সেন্টারের গেটে যান। তারা নিরাপত্তাকর্মী মো. হারুন আর রশিদের কাছে অপারেশন ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনের খোঁজ করেন। নিজাম উদ্দিন দায়িত্বে নেই জানানো হলে তারা অনুমতি ছাড়া ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। বাধা পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীকে হুমকি দিয়ে চলে যান তারা। এর দুই দিন পর ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় দলবদ্ধভাবে এসে ওয়্যারহাউজে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
ফোনে হুমকির অভিযোগ
এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে সাইফুল নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ‘ক্যাপ্টেন ইমনের লোক’ পরিচয় দিয়ে ফোন করে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দিচ্ছেন। এ জন্য একটি ফোন নম্বরও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে ।
হামলা ও পরবর্তী হুমকির কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
