দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত অপরাধের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দুই বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—তৃতীয় প্রান্তিকের অপরাধসংক্রান্ত
পরিসংখ্যানও উপস্থাপন করা হয়।
উপস্থাপিত
তথ্যে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দ্রুত বিচার, দাঙ্গা, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, চুরি, সিঁধেল চুরি, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানসংক্রান্ত অপরাধের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব তথ্য-উপাত্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতির চিত্র উঠে এসেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এ পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে সারা দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ পর্যালোচনা করা হয়।
অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করেন কমিটির সদস্যরা। অপরাধের ধরন বিবেচনায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. নূরুল ইসলাম রাজধানী ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম এবং এ সংক্রান্ত অগ্রগতি তুলে ধরেন।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম ও মো. আবদুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তরগুলোর মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
