দেশে নগদ টাকায় লেনদেনের কারণে বছরে প্রায় ৯৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। নগদ অর্থ ছাপানো, পরিবহন, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে নগদনির্ভর অর্থনীতির বার্ষিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। এ ব্যয় দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য কস্ট অব ক্যাশ স্টাডি ইন বাংলাদেশ: আ কমপারেটিভ অ্যানালাইসিস অব ক্যাশ অ্যান্ড ডিজিটাল পেমেন্ট’ শীর্ষক গবেষণায় নগদ ও ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় তুলনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়, নগদ লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষণ ও যাচাই কঠিন হওয়ায় অর্থনীতির একটি বড় অংশ করের আওতার বাইরে থাকছে। গবেষণার প্রাক্কলন অনুযায়ী, দেশে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির আকার জিডিপির প্রায় ২৭ দশমিক ২ শতাংশ।
সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি বাদ দিলেও নগদ লেনদেনের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যয় ৩৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, ভোক্তাদের ২৮ হাজার কোটি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ৬ হাজার ২০০ কোটি এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, যাতায়াত ও লেনদেনের হিসাব মেলাতে এসব ব্যয় হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ডিজিটাল লেনদেনের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, নগদ লেনদেনের সামগ্রিক ব্যয় ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় প্রায় ২৮ গুণ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নগদবিহীন লেনদেনই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলা কিউআর জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ৫০ শতাংশ লেনদেনকে নগদবিহীন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাদের মতে, বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবাদাতাদের মধ্যে এ ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
গবেষণায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় তুলনামূলক কম হলেও লেনদেনের ফি, ব্যবসায়ীদের খরচ, অর্থ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতি এ ব্যবস্থার বিস্তারে বাধা তৈরি করছে। তাই ডিজিটাল লেনদেনকে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি কর তদারকি জোরদার এবং ব্যবসায়িক লেনদেনের হিসাব সংরক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইস্যু করা নোটের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা ছিল ব্যাংক খাতের বাইরে।
ইএআর/এসএনআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
