ছবির ক্যাপশন: .
বিশেষ প্রতিনিধি, সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য
একজন মা শুধু সন্তানের জন্মদাত্রী নন — তিনি তার প্রথম শিক্ষক, শেষ আশ্রয় এবং সারাজীবনের অনুপ্রেরণা। এই সত্যকে সমাজের সামনে তুলে ধরতে প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্ব মা দিবসে আয়োজিত হলো 'গরবিনী মা সম্মাননা ২০২৬'।
১০ মে রবিবার রাজধানীর মহাখালী রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্যোগে ত্রয়োদশবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো এই বিশেষ আয়োজন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণমন্ত্রীর মা বেগম জেবুন্নেছা এবং গরবিনী মা ফাল্গুনী কুন্ডুর প্রয়াণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
মায়ের প্রতি রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি। তিনি বলেন, একটি শিশুর প্রথম পাঠশালা যেমন তার মা, তেমনি জীবনের কঠিনতম সময়ে তার শেষ ভরসাস্থলও তিনি। মায়ের এই নিরন্তর ত্যাগ কোনো প্রতিদানের আশা রাখে না — আমাদের কর্তব্য শুধু সারাজীবন শ্রদ্ধা আর মমতায় তাঁকে আগলে রাখা। একই সাথে তিনি এই ধরনের সামাজিক আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্ত্তী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এই সম্মাননার প্রধান উদ্যোক্তা ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী।
যে আবেগ থেকে জন্ম এই আয়োজনের
২০১৪ সালে হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্ত্তী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তীর মায়ের অসুস্থতায় রোগমুক্তির প্রার্থনা থেকে এই আয়োজনের সূচনা। সেবছর মাত্র পাঁচজন গরবিনী মাকে সম্মাননা দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল — প্রধান অতিথি ছিলেন প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। গত বছর সম্মাননার এক যুগপূর্তি উদযাপিত হয়েছে। এবার অনুষ্ঠিত হলো ১৩তম আসর।
যাঁরা পেলেন এবারের সম্মাননা
এবার ১১টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১১ জন কৃতী সন্তানের মাকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। প্রশাসন ক্যাটাগরিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের মা বেগম ফরহাত ইসলাম। আইন ও বিচার ক্যাটাগরিতে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহা. রকিবুল ইসলামের মা বেগম রোকেয়া রশীদ। আইন-শৃঙ্খলা ক্যাটাগরিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলামের মা মোসা. রাজিফা আজাদ। শিক্ষা ক্যাটাগরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হকের মা সেলিমা হক। সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ.কে.এম. মঞ্জুরুল ইসলামের মা রাজিয়া আহমেদ। চিকিৎসা ক্যাটাগরিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের মা সরস্বতী প্রসাদ। প্রকৌশল ক্যাটাগরিতে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থপতি অমিতি কুন্ডুর মা ফাল্গুনী কুন্ডু। সংগীত ক্যাটাগরিতে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ ২০০৯ চ্যাম্পিয়ন ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী সোমনূর মনির কোনালের মা সায়মা মনির মিনু। অভিনয় (নারী) ক্যাটাগরিতে অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র তারকা তাসনিয়া ফারিণের মা সৈয়দা শারমিন। অভিনয় (পুরুষ) ক্যাটাগরিতে নাট্য অভিনেতা, মডেল ও সমাজকর্মী জিয়াউল হক পলাশের মা ফাতেমা আক্তার কাজল। এবং বিশেষ ক্যাটাগরিতে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ও প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী খাইরুম ইসলামের মা শিরিন আক্তার পিয়া।
সম্মাননার বিবরণ ও অনুষ্ঠান পরিচালনা
সম্মানিত প্রতিটি মাকে সম্মাননা ক্রেস্ট, মেডেল, বিনামূল্যে মাস্টার হেলথ চেকআপ প্যাকেজ, উডেন পিকচার ও বিশেষ উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও ইউনিভার্সেল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা গরবিনী মায়েদের উত্তরীয় ও মেডেল পরিয়ে দেন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংবাদ পাঠিকা বিপাশা মজুমদার। সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন হাসপাতালের হেড অব ব্র্যান্ড সি. এফ. জামান।
